কাটমানির টাকায় ফুলেফেঁপেছে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট! লেনদেন বন্ধের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন ঋতব্রতর

কাটমানির টাকায় ফুলেফেঁপেছে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট! লেনদেন বন্ধের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন ঋতব্রতর

কলকাতা হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৫৩৪ কোটি টাকার লেনদেন বন্ধ বা ‘ফ্রিজ’ করার জন্য ব্যাঙ্ককে চিঠি দিয়েছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ অরূপ। এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে ঋতব্রতর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, দলের অ্যাকাউন্টে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ কাটমানি বা দুর্নীতির মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে থাকতে পারে।

তৃণমূলের অন্দরে আর্থিক টানাপোড়েন ও বিদ্রোহ

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার এই ঘটনা তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও একবার প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন বন্ধ হয়ে গেলে দলের দৈনন্দিন কাজ ও রাজনৈতিক কর্মসূচি যে বড়সড় ধাক্কা খাবে, তা বলাই বাহুল্য। এর পাশাপাশি, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের ধারাবাহিক কটাক্ষের কড়া জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। কুণালের দীর্ঘ জেলজীবনের প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে আক্রমণ করার পাশাপাশি ঋতব্রত দাবি করেছেন, বর্তমানে ৬৫ জন বিদ্রোহী বিধায়ক তাঁর পক্ষে রয়েছেন। দলের এই বিশাল অংশের বিদ্রোহ শাসকদলের রাজনৈতিক ভিতকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে।

সিআইডি তদন্ত ও নিরাপত্তা ঘিরে প্রশাসনিক রদবদল

বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ডে এবার বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সিআইডি তলব করতে চলায় শাসকদলের ওপর আইনি চাপ আরও বেড়েছে। নিজের ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে চলা তদন্তের কথা স্বীকার করে নিয়েই ঋতব্রত দ্রুত এই মামলার স্বচ্ছ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কালীঘাটের আপত্তি সত্ত্বেও নবান্নের নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ২০ বছরের পুরনো ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীদের (পিএসও) সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলনেতা এই রদবদলকে সাধারণ প্রশাসনিক নিয়ম বলে দাবি করলেও, সামগ্রিকভাবে এই ঘটনাগুলি রাজ্য রাজনীতিতে নবান্ন ও কালীঘাটের মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েন এবং শাসকদলের ক্রমবর্ধমান অস্বস্তিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *