তৃণমূলের কোষাগার নিয়ে বিস্ফোরক দাবি অরূপের, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের আর্জি জানিয়ে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ককে চিঠি

বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে তৈরি হওয়া চরম অরাজকতা ও রাশ আলগা হওয়ার আবহে খোদ দলীয় কোন্দল এবার ব্যাঙ্কের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেল। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ অপব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে সমস্ত লেনদেন বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন দলের কোষাধ্যক্ষ তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। গত ১২ জুন এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় তিনি এই চিঠি পাঠান, যা ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ১৬ জুন গ্রহণ করেছে।
স্বাক্ষরিত চেকে জালিয়াতির আশঙ্কা ও অভ্যন্তরীণ বিবাদ
চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ভোটের পর দলের ভেতরে ও বাইরে সাংসদ, বিধায়ক থেকে শুরু করে প্রথম সারির নেতারা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন। এই অরাজক পরিস্থিতিতে দলের কর্তৃত্ব এবং সম্পদ কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে তীব্র টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। দলীয় কাজকর্ম পরিচালনার জন্য বেশ কিছু চেকে অগ্রিম সই করা থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সই করা চেকগুলো অন্য কারও হাতে চলে গেলে বেআইনিভাবে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া বা অবৈধ লেনদেনের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই আর্থিক জালিয়াতি রুখতেই দলের ভেতরে কোনো আইনি বা স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টের সমস্ত ডেবিট লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শীর্ষ নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক প্রভাব
খোদ দলের কোষাধ্যক্ষের পক্ষ থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার এই আবেদন তৃণমূলের অন্দরে এক নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অরূপ বিশ্বাসের এই পদক্ষেপ পরোক্ষভাবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনা ও নেতৃত্বকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিধাননগরের মেসিকাণ্ডে পুলিশের মুখোমুখি হওয়ার পরপরই অরূপের এই ব্যাঙ্কিং পদক্ষেপ দলের অন্দরে আস্থার অভাবকে পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিল। একদিকে নির্বাচনী বিপর্যয়, অন্যদিকে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের রাশ আলগা হওয়া—সব মিলিয়ে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং দলীয় কোষাগারের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।