চশমায় গোপন ক্যামেরা আর কোটি টাকার তোলাবাজি, আদালতে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য!

চশমায় গোপন ক্যামেরা আর কোটি টাকার তোলাবাজি, আদালতে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য!

গ্রেফতারের পর টলিউডের প্রভাবশালী নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তোলাবাজি এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হওয়া এই নেতার বিরুদ্ধে এবার রিজেন্ট পার্ক থানার মামলায় আদালতে একগুচ্ছ বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছে। আলিপুর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতের নির্দেশে আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত তাঁকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে, যা এই তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে।

চশমায় ক্যামেরা ও কোটি টাকার গরমিল

মামলার শুনানিতে অভিযোগকারীর আইনজীবী দাবি করেছেন, কোভিডের সংকটকালীন সময়ে টলিপাড়া থেকে প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলা হয়েছিল। কিন্তু ফেডারেশনের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে ৭৫ লক্ষ টাকার কোনও হদিস নেই। সবচেয়ে চমকপ্রদ অভিযোগটি উঠেছে স্বরূপ বিশ্বাসের ব্যবহৃত চশমা নিয়ে। দাবি করা হয়েছে, তাঁর চশমায় গোপন ক্যামেরা ফিট করা থাকত। এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তিনি প্রভাব খাটাতেন এবং মহিলাদের ফাঁদে ফেলে তাঁদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই হওয়ার সুবাদে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে টলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সার্বক্ষণিক ভয়ের পরিবেশের মধ্যে রাখা হতো বলেও আদালতে জানানো হয়েছে। যদিও স্বরূপের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগই এখনও প্রমাণিত হয়নি।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও টলিউডে ভয়ের আবহ

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন জগতে একক রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং জবাবদিহিতার অভাবই এই ধরনের বেপরোয়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রধান কারণ। মন্ত্রীর পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কব্জি তৈরি হয়েছিল, তার জেরেই সাধারণ শিল্পী ও কলাকুশলীরা এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব টলিউডের জন্য সুদূরপ্রসারী হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সিন্ডিকেট রাজ ও ভয়ভীতির সংস্কৃতির অবসান ঘটার একটি বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সাথে, বিনোদন জগতে আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং নারীদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে বড়সড় সংস্কার আসতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *