আশ্রমে মিলল বিপুল গর্ভনিরোধক, তারপরই ফাঁস হল ভয়ংকর অভিযোগ! গ্রেপ্তার ভণ্ড ধর্মগুরু

পুণেতে এক স্বঘোষিত ধর্মগুরুর ভয়াবহ কুকীর্তি ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। নিজেকে ঈশ্বরের অবতার দাবি করা রাধেশ্যাম মিশ্র ওরফে রাধামোহন মিশ্র নামের ওই ভণ্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুণের ওয়াঘোলির উবালে নগর এলাকায় অবস্থিত ‘মডার্ন গুরুকুল’ নামের একটি আশ্রমে বছরের পর বছর ধরে এক মহিলাকে বন্দি রেখে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেল এবং অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারী মহিলা ২০১০ সালে প্রথম এই আশ্রমের সংস্পর্শে আসেন। অভিযোগ, ২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ওই মহিলাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে রাধাশ্যাম এবং সেই ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে রাখা হয়। পরবর্তীতে সেই আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর ওপর নারকীয় অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি ওই মহিলার বৈবাহিক সম্পর্কও জোরপূর্বক ভেঙে দেয় অভিযুক্ত। কথা না শুনলে মহিলাকে বিদ্যুতের শক দেওয়া এবং জোর করে নিজের প্রস্রাব খাওয়ানোর মতো জঘন্য অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।
আশ্রমের আড়ালে অপরাধের স্বর্গরাজ্য
নির্যাতিতা কোনোমতে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার পর ‘মডার্ন গুরুকুল’ আশ্রমে এক বিশাল অভিযান চালায় তদন্তকারীরা। সেখান থেকে ১২টি ল্যাপটপ, ১১টি মোবাইল ফোন, ১৯টি হার্ড ডিস্ক এবং সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ সোনার গয়না, গর্ভনিরোধক ওষুধ এবং মাদক উদ্ধার হওয়ায় আশ্রমের আড়ালে চলা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি সুষ্পষ্ট হয়েছে।
অন্ধবিশ্বাসের কুপ্রভাব ও আইনি পদক্ষেপ
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিজেকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী দাবি করে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল এই ভণ্ড সাধু। ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাসকে পুঁজি করে কীভাবে দিনের পর দিন একটি অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস এবং গর্ভনিরোধক সামগ্রী থেকে পুলিশের অনুমান, আরও অনেকেই এই চক্রের শিকার হতে পারেন। ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ব্ল্যাকমেইলিং এবং নির্যাতনের কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।