শুক্রবার শেয়ারবাজারে রক্তক্ষয়, মুখ থুবড়ে পড়ল আইটি সেক্টর!

টানা পাঁচ দিন ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সপ্তাহের শেষ দিন শুক্রবার বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ারবাজার। এদিন লেনদেন শুরু হতেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সেনসেক্স এবং নিফটি। দিনের শুরুতে সেনসেক্স ৭২৪.৩৪ পয়েন্ট বা ০.৯৪ শতাংশ কমে ৭৬,৬৮৫.৬৪-তে নেমে আসে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ২০১.৭০ পয়েন্ট বা ০.৮৩ শতাংশ পতনের পর ২৩,৯৬৬.৩০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সকাল ৯টা ২৫ মিনিটের মধ্যেই নিফটি গুরুত্বপূর্ণ ২৪,০০০-এর স্তর ভেঙে নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
ধসের নেপথ্যে আইটি শেয়ারের পতন
মূলত তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি খাতের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপই এই বড় ধসের প্রধান কারণ। এদিন ইনফোসিসের শেয়ার সর্বোচ্চ ৭.৮৪ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। এছাড়াও টিসিএস (৫.৯১%), টেক মাহিন্দ্রা (৫.৫১%) এবং এইচসিএলটেকের (৫.১৩%) মতো বড় আইটি কো ম্পা নিগুলোর শেয়ারে ভারী পতন দেখা গেছে। আইটি স্টকের এই ধারাবাহিক পতন সামগ্রিকভাবে গোটা শেয়ার বাজারকেই টেনে নিচে নামিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের বিরাট ক্ষতির মুখে ফেলেছে।
স্বস্তির জায়গা ব্যাঙ্কিং খাত ও তেলের দাম
শেয়ারবাজারে এই বড় পতন সত্ত্বেও বেশ কিছু ইতিবাচক দিক বাজারের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেশ কয়েক মাস পর অনেকটাই কমেছে, যা দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে স্বস্তিদায়ক। এর পাশাপাশি, গত কয়েকটি ট্রেডিং সেশনে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। ব্যাঙ্কিং খাতের শেয়ারগুলোতে ‘শর্ট কভারিং’-এর ফলে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বাজারকে সাপোর্ট দিচ্ছে। আইটি শেয়ারে প্রবল চাপ থাকলেও এনটিপিসি, সান ফার্মা, পাওয়ার গ্রিড এবং ভারতী এয়ারটেলের মতো কিছু স্টক এখনও লাভের মুখ দেখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দাম কমা এবং ব্যাঙ্কিং খাতের এই সাপোর্ট বাজারের এই আকস্মিক পতনকে কিছুটা হলেও সামাল দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।