রামমন্দিরে কোটি টাকার চুরি, ভেঙে পড়া ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী

রামমন্দিরে কোটি টাকার চুরি, ভেঙে পড়া ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রী

অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দানের কোটি কোটি টাকা এবং সোনাদানা চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। মন্দির নির্মাণ কমিটির প্রধান তথা অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার নৃপেন্দ্র মিশ্র জানিয়েছেন, ভক্তদের দান করা অর্থ চুরি যাওয়া এবং মন্দিরের অভ্যন্তরীণ শাসন ব্যবস্থার বেহাল দশা— উভয় বিষয় নিয়েই চিন্তিত দেশের প্রধানমন্ত্রী। প্রাথমিকভাবে চুরির বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও, অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর খোদ রামজন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিস পেয়েছে।

সিটের জালে দুই কর্মচারী, গায়েব সিসিটিভি ফুটেজ

ঘটনার তদন্তে উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার তিন সদস্যের একটি উচ্চস্তরীয় বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে। তদন্তে নেমে অযোধ্যা পুলিশ ইতিমধ্যেই মন্দিরের দুই কর্মচারীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। প্রাথমিক সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের কাছ থেকে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা নগদ এবং সোনাদানা উদ্ধার হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে খোদ মন্দির কমিটির প্রধানই সংশয় প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, স্বয়ংক্রিয় নিয়মে ৪৫ দিন পর পর পুরনো সিসিটিভি ফুটেজ মুছে যাওয়ার কারণে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ উবে গিয়েছে, যা সময় থাকতে সংরক্ষণ করা হয়নি।

তদন্তের জটিলতা ও আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ

নৃপেন্দ্র মিশ্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এই চুরির কিনারা করা তদন্তকারীদের পক্ষে যথেষ্ট কঠিন হতে চলেছে। মন্দিরে গয়না বা বড় অঙ্কের অর্থ দান করলে তার রসিদ ও হিসাব থাকে, কিন্তু সাধারণ ভক্তরা সরাসরি বিগ্রহের সামনে যে বিপুল পরিমাণ টাকাপয়সা বা সোনাদানা অর্পণ করেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব রাখা সম্ভব হয় না। ফলে ঠিক কত টাকার সম্পত্তি চুরি গেছে, তার সঠিক মূল্যায়ন করা প্রায় আসাম্ভব। এই জরাজীর্ণ ও ভেঙে পড়া শাসন ব্যবস্থাকে সংস্কার করে আগামী দিনে একটি সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করাই এখন মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *