টেলিগ্রাম যেন নতুন ডার্ক ওয়েব! সরকারের নিষেধাজ্ঞায় সিলমোহর আদালতের

জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দিল দিল্লি হাই কোর্ট। শুক্রবার সরকারের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি তেজস কারিয়া। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনে টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করার যথেষ্ট যুক্তিসংগত কারণ সরকারের কাছে রয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং যৌক্তিক বলে রায় দিয়েছে আদালত।
নতুন ডার্ক ওয়েবে পরিণত টেলিগ্রাম
আদালতে শুনানিপর্বে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়। কেন্দ্রের দাবি, পরিচয় গোপন রাখার অবাধ সুযোগ থাকায় এই অ্যাপটি বর্তমানে অপরাধীদের কাছে ‘নতুন ডার্ক ওয়েব’ হয়ে উঠেছে। ইউজাররা প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার করে ফোন নম্বর ও আইডির মতো তথ্য লুকিয়ে রাখায় তদন্তকারীদের পক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা কঠিন হচ্ছে। সরকারের অভিযোগ, এই প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে মাদক পাচার, সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, চাইল্ড পর্নোগ্রাফি ছড়ানো এবং বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অপরাধীরা টেলিগ্রামের মাধ্যমে সহজেই ডার্ক ওয়েবের লিঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা প্রশাসনের নজরদারিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
নিট জালিয়াতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রেও টেলিগ্রামের বড় ভূমিকা সামনে এসেছে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) জানিয়েছে, একাধিক টেলিগ্রাম চ্যানেল প্রকাশ্যে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত দাবি করে প্রতারণা চালাচ্ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারার অধীনে সরকারের এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা সাইবার অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এবং সাধারণ শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। আদালতও নিশ্চিত করেছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের এই ন্যূনতম বিধিনিষেধের পদক্ষেপ কোনোভাবেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।