প্রেমিকার ওজন কমাতে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা, যুবকের অদ্ভুত যুক্তিতে তাজ্জব আদালত

প্রেমিকার ওজন কমাতে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা,  যুবকের অদ্ভুত যুক্তিতে তাজ্জব আদালত

হংকংয়ে প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার পর মৃতদেহ চাদরে মুড়িয়ে রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়া এক যুবকের অদ্ভুত বয়ান প্রকাশ পেয়েছে। ২৯ বছর বয়সী অভিযুক্ত যুবক এনজি কা-সিন আদালতে দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন, তিনি প্রেমিকাকে ইচ্ছা করে খুন করেননি, বরং তাঁর ওজন কমাতে সাহায্য করার জন্যই রড দিয়ে পিটিয়েছিলেন। অদ্ভুত এই যুক্তিতে খোদ আইনজীবীরাও বিস্মিত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে হংকংয়ের একটি ফ্ল্যাটে ৩০ বছর বয়সী প্রেমিকা ‘ইপ’-কে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহত তরুণীর শরীরের প্রায় ৫৫ শতাংশ অংশ অ্যাসিড বা কোনো ক্ষয়কারী তরল দিয়ে পোড়ানো ছিল। আদালতের সিনিয়র পাবলিক প্রসিকিউটর অড্রে পারওয়ানি জানান, অভিযুক্ত যুবক পুরো সত্য গোপন করার চেষ্টা করছেন।

ওজন কমানোর অদ্ভুত থিওরি ও ধর্মবোনের উস্কানি

পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে এনজি স্বীকার করেছেন যে তাঁর আঘাতেই প্রেমিকার মৃত্যু হয়েছে। তবে তাঁর দাবি, প্রেমিকার ওজন কমানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তিনি ইপ-কে ঘুমোতে দিচ্ছিলেন না। আর ইপ যাতে ঘুমিয়ে না পড়েন, তাই তিনি অনবরত রড দিয়ে তাঁকে পিটিয়ে যাচ্ছিলেন। এনজি আরও দাবি করেন, তাঁদের সঙ্গে ফ্ল্যাটে থাকা তাঁর এক ‘ধর্মবোন’ তাঁকে আরও মারধর করার উস্কানি দিয়েছিলেন। এমনকি তরুণীর শরীরে অ্যাসিডের পোড়া দাগ নিয়ে এনজির সাফাই, ইপ নিজেই মেঝেতে ড্রেন পরিষ্কার করার কেমিক্যাল ঢেলে পায়ে ছেটাতে বলেছিলেন এবং পা পিছলে দেওয়ালে বারবার মাথা ঠুকে আঘাত পেয়েছিলেন। ২০২২ সালের ২৮শে এপ্রিল সকালে ইপ তীব্র যন্ত্রণার পর কোমায় চলে যান এবং মারা যান।

লাশ নিয়ে যাওয়ার সময় শান্ত ছিলেন অভিযুক্ত

ইপের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ চাদর দিয়ে মুড়িয়ে একটি ট্রলিতে চাপিয়ে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন এনজি। সেই সময় চাদরের তলা থেকে একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন এক পথচারী। আদালতে সাক্ষীরা জানান, ধরা পড়ার সময় অভিযুক্ত যুবকের চোখেমুখে কোনো ভয় ছিল না, অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় তিনি সাফাইকর্মীকে বলেছিলেন যে এটি একটি লাশ এবং তিনি তা থানায় নিয়ে যাচ্ছেন।

গ্রেপ্তার হওয়ার পর এনজি অনিচ্ছাকৃত খুনের অপরাধ স্বীকার করতে চাইলেও সরকারি উকিলেরা তা খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে এখন সরাসরি পরিকল্পিত খুনের মামলা চলছে, যা হংকংয়ের বিচারব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *