গল্প চুরির বিস্ফোরক অভিযোগে টলিউডে তোলপাড়, কাঠগড়ায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়!

টলিউডের শীর্ষ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গল্প ও চরিত্র চুরির এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন ‘কাদম্বরী’ ও ‘কাবুলিওয়ালা’ খ্যাত প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সুমন ঘোষ। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’ চলচ্চিত্রে প্রসেনজিতের অভিনীত ‘রকস্টার আকাশ চ্যাটার্জি’ চরিত্রের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ আড়াই বছরের পরিকল্পিত একটি চিত্রনাট্যের হুবহু মিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন এই পরিচালক। এই বিষয়ে অভিনেতার পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খোলা চিঠিও পোস্ট করেছেন তিনি।
খবরের সূত্রপাত মূলত একটি ই-মেইলকে কেন্দ্র করে, যা সুমন ঘোষ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে পাঠিয়েছেন। নির্মাতা দাবি করেন, গত আড়াই বছর ধরে তিনি ‘স্টার’ নামে একটি চিত্রনাট্য নিয়ে প্রসেনজিতের সঙ্গে কাজ করছিলেন, যেখানে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল খোদ প্রসেনজিতেরই। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিভিন্ন বৈঠকে চরিত্রের রূপ, লুক ও গল্পের নানা উপাদান নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে সম্প্রতি ‘অভিমান’ ছবির টিজার ও ট্রেলার প্রকাশের পর সুমন ঘোষ লক্ষ্য করেন, তার পরিকল্পিত চরিত্রের একাধিক মূল বৈশিষ্ট্য—যেমন একজন সুপারস্টারের দুই ভিন্ন বয়সের রূপ, হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া, ভগ্নপ্রায় পরিবেশে বসবাস এবং বিশ্বস্ত ম্যানেজারের উপস্থিতি—এই চলচ্চিত্রে হুবহু ব্যবহার করা হয়েছে।
শিল্পীসুলভ সততা ও আস্থার সংকট
পরিচালক সুমন ঘোষ স্পষ্ট করেছেন যে, তার এই অভিযোগ কোনো আইনি বা কপিরাইট লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং এটি শিল্পীসুলভ সততা ও পারস্পরিক বিশ্বাসের প্রশ্ন। তার মতে, গল্প কিছুটা আলাদা হলেও চরিত্রের রূপায়ণে যে সাদৃশ্য দেখা গেছে, তা দীর্ঘদিনের সৃজনশীল পরিশ্রমকে চরম আসাম্মান করে। টলিউডের সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বা মিঠুন চক্রবর্তীর মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুমন ঘোষ জানান, প্রসেনজিতের মতো একজন সিনিয়র অভিনেতার কাছ থেকে এই ধরনের অনৈতিক আচরণ ও অসৌজন্যমূলক উপেক্ষা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এটি টলিউডের পেশাগত সংস্কৃতির জন্য একটি নেতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সিনেমার ভাগ্য
এই ঘটনার ফলে নতুন ও স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতারা প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে আইডিয়া বা চিত্রনাট্য ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আস্থা সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সুমন ঘোষ জানিয়েছেন, তিনি এখনও পুরো ছবিটি দেখেননি এবং চূড়ান্ত বিচারের ভার দর্শকদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। তবে তার এই অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে পরিশ্রম করা তার নিজস্ব চলচ্চিত্র ‘স্টার’ আর নির্মাণ করা সম্ভব হবে না বলে তিনি অত্যন্ত ভারী মনে জানিয়েছেন। এই বিতর্ক টলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের পারস্পরিক বিশ্বাস ও পেশাদারিত্বের জায়গাকে বড়সড় এক ঝাঁকুনি দিল।