রাম মন্দিরের পর এবার কি মথুরা, যোগীকে রক্তে লেখা চিঠিতে চাঞ্চল্যকর অনুদান কেলেঙ্কারির নালিশ সাধুর

রাম মন্দিরের পর এবার কি মথুরা, যোগীকে রক্তে লেখা চিঠিতে চাঞ্চল্যকর অনুদান কেলেঙ্কারির নালিশ সাধুর

অযোধ্যার রাম মন্দিরের পর এবার মথুরার ঐতিহাসিক শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মন্দিরেও ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অযোধ্যায় রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকার যখন চরম অস্বস্তিতে, ঠিক তখনই মথুরার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে। শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংঘর্ষ ন্যাসের সভাপতি দীনেশ শর্মা ওরফে ফলাহারী বাবা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিজের রক্ত দিয়ে চিঠি লিখে এই দুর্নীতির সিবিআই তদন্ত দাবি করেছেন।

সিসিটিভি বন্ধ করে অর্থ লোপাটের অভিযোগ

মুখ্যমন্ত্রীকে পাঠানো ওই চিঠিতে ফলাহারী বাবা অভিযোগ করেছেন, শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান মন্দিরের দানপাত্রের অর্থ গণনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানকার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, মন্দিরের যে সমস্ত সাধারণ কর্মচারীরা একসময় স্কুটারে চলাফেরা করতেন, তাঁরা এখন রাতারাতি বিলাসবহুল প্রাসাদোপম বাড়ির মালিক বনে গেছেন। কর্মচারীদের এই বিপুল সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানো জরুরি বলে তিনি মনে করেন। উল্লেখ্য, মথুরার শাহি ঈদগাহ মসজিদ ও শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংক্রান্ত চলমান মামলার অন্যতম হিন্দু মামলাকারী হলেন এই দীনেশ শর্মা।

তবে শ্রীকৃষ্ণ জন্মস্থান সেবা সংস্থান এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উলটে তারা দীনেশ শর্মার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছে, শর্মা নিজেই একটি ‘ভুয়া’ ট্রাস্ট গঠন করে ভক্তদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অনুদান সংগ্রহ করছেন।

রাম মন্দিরের আবহেই বাড়ছে অস্বস্তি

মথুরার এই ঘটনা বিজেপি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ ইতিপূর্বেই অযোধ্যার রাম মন্দিরের অর্থ তছরুপের অভিযোগে যোগী সরকার ব্যাকফুটে রয়েছে। রাম মন্দিরের দুই কর্মচারীকে ইতিমধ্যে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং একজনের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুখ্যমন্ত্রী ৩ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছেন। এই দুর্নীতির জেরে বিজেপির অন্দরেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বজরং দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা প্রাক্তন সাংসদ বিনয় কাটিয়ার রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র নির্মাণ ট্রাস্টের সদস্যদের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, যা শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অযোধ্যার পর মথুরার মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় স্থানের অনুদান নিয়ে এই ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। একদিকে যখন এই পবিত্র স্থানগুলির আইনি ও ধর্মীয় অধিকার নিয়ে আন্দোলন চলছে, তখন ভেতরের এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ সাধারণ ভক্তদের বিশ্বাসে আঘাত হানার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলার প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতাকেও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *