প্রশ্ন ফাঁস রুখতে কড়া প্রশাসন, নিট পরীক্ষার আগে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা মহড়া!

নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগাতার অনিয়মের ধাক্কা সামলে এবার পরীক্ষা প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। আগামী ২১ জুন, রবিবার দেশজুড়ে আয়োজিত হতে চলা নিট পুনঃপরীক্ষাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নির্বিঘ্ন ও সুরক্ষিতভাবে সম্পন্ন করতে দেশব্যাপী এক বিশাল নিরাপত্তা মহড়া বা ‘মক ড্রিল’ পরিচালনা করছে জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা (এনটিএ)। শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মহড়ায় সারা দেশের ৫ হাজারেরও বেশি পরীক্ষা কেন্দ্রে আড়াই লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী ও আধিকারিক অংশ নিয়েছেন। মূলত পরীক্ষা শুরুর আগে এজেন্সিগুলির মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সাধন এবং প্রস্তুতির চূড়ান্ত মূল্যায়ন করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয় ও আধাসামরিক বাহিনীর নজরদারি
বিগত দিনে ঘটে যাওয়া অনিয়মকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে এবার পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে গড়ে তোলা হয়েছে কঠোর ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর উত্তরপত্রের সামগ্রিক হেফাজত ও সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় আধাসামরিক বাহিনীর হাতে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সশস্ত্র নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি জাতীয় চিকিৎসা কমিশন (এনএমসি) দেশের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে হাই অ্যালার্টে রেখেছে এবং ২০ ও ২১ জুন বিশেষ জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছে। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের মূল লক্ষ্য হলো পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের পরিবেশ বজায় রাখা।
ভুয়ো ভিডিওর বিভ্রান্তি ও আদালতের কঠোর অবস্থান
পরীক্ষার ঠিক আগের মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিটের আসল প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি সংবলিত একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে এনটিএ এবং প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) যৌথ ফ্যাক্ট-চেকের মাধ্যমে ভিডিওটিকে সম্পূর্ণ ভুয়ো, জাল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় জاليةতি এবং সংগঠিত চক্রের প্রশ্ন ফাঁস রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিচারব্যবস্থাও। জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ‘টেলিগ্রাম’-এর ওপর সরকারের চাপানো সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, পরীক্ষার পবিত্রতা রক্ষা এবং জালিয়াতি রুখতে সরকারের নেওয়া এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।