স্কুলঘরেই সহ-শিক্ষিকাকে যৌন হেনস্থার বিস্ফোরক অভিযোগ, কাঠগড়ায় চন্দননগরের এক প্রধান শিক্ষক!

শিক্ষাদানের পবিত্র প্রাঙ্গণেই এক নারী সহ-কর্মীকে লাগাতার যৌন হেনস্থা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল খোদ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চন্দননগরের একটি নামী স্কুলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সহ-শিক্ষিকা চন্দননগর থানায় এবং হুগলির বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
লাগাতার হেনস্থা ও মানসিক ট্রমা
অভিযোগকারিণী শিক্ষিকার দাবি, গত বেশ কিছুদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক তাঁকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিচ্ছিলেন এবং উত্যক্ত করছিলেন। শিক্ষিকার স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জোরপূর্বক তাঁর বাড়িতে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। গত ২ জুন গরমের ছুটির পর স্কুল খুললে, প্রধান শিক্ষক তাঁর নিজের অফিস ঘরে ডেকে ওই শিক্ষিকাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানি করেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর চরম মানসিক ট্রমার শিকার হন ওই শিক্ষিকা, এমনকি তাঁকে পেশাদার কাউন্সেলিংও করাতে হয়। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেন।
অভিযোগের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিদ্যালয়ের অন্য সহ-কর্মী ও শিক্ষকদের একাংশের দাবি, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের আচরণ বরাবরই আপত্তিকর। বিভিন্ন সময়ে নারী সহ-কর্মীদের সঙ্গে চটুল কথাবার্তা বলা, কাজের অজুহাতে নিজের ঘরে ডেকে আজেবাজে গল্প করা তাঁর স্বভাবগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। এই ঘটনার জেরে বিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের পরিবেশ এবং সামগ্রিক সুরক্ষার বিষয়টি বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন এবিটিএ-র পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পুলিশকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
হুগলির ডিআই সত্যজিৎ মণ্ডল জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং বিভাগীয় স্তরে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, চন্দননগর থানা সূত্রে জানা গেছে যে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে নোটিস পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।