ডাল-রুটি আর লকআপের মেঝে, এক রাতেই নাভিশ্বাস প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর!

ডাল-রুটি আর লকআপের মেঝে, এক রাতেই নাভিশ্বাস প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহর!

পুলিশ হেফাজতে প্রথম রাতটা একেবারেই স্বস্তিদায়ক ছিল না প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর। ডিনারে ডাল আর রুটি খেয়ে লকআপের মেঝেতেই শুয়ে-বসে রাত কাটাতে হয়েছে তাঁকে। বিশেষ কোনো বাড়তি আবদার না জানালেও, লকআপের বন্দিজীবনে এক রাতেই কার্যত নাভিশ্বাস উঠেছে হেভিওয়েট এই নেতার। ফলে ভোর হতে না হতেই বন্দিদশায় ঘরের ভেতরেই তাঁকে পায়চারি করতে দেখা যায়।

আবাস দুর্নীতিতে বাড়ছে আইনি চাপ

লকআপে রাত কাটার পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে আবাস যোজনায় দুর্নীতির নতুন নতুন অভিযোগ। দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ এনেছেন স্থানীয় বাসিন্দা বিজয় সাহা। তাঁর দাবি, আবাসের ঘর পাওয়ার পর তাঁর কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও রসিদ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ২০ হাজার টাকার। এতদিন আতঙ্কে মুখ না খুললেও, পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তিনি দিনহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, সিপিএমের পক্ষ থেকেও তথ্য ও প্রমাণসহ ৫৫ জনের একটি তালিকা থানায় জমা দিয়ে দাবি করা হয়েছে, চেয়ারম্যান থাকাকালীন উদয়ন গুহ এঁদের সবার কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা তুলেছিলেন।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও হামলা

এই ঘটনার রেশ ধরে দিনহাটার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে পুলিশ হেফাজতে থাকা উদয়ন গুহর পাশে দাঁড়াতে তাঁর স্ত্রী শাশ্বতী গুহসহ পরিবারের সদস্যরা দিনহাটার বাড়িতে এসে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে, তাঁদের আগমনের খবর পেয়ে বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে দুপুরের খাবার পৌঁছে দেন। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা দীপ্তিমান সেনগুপ্তর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া এবং সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

জনরোষের আশঙ্কা ও পুলিশের সতর্কতা

দুর্নীতির অভিযোগ এবং একের পর এক নতুন মামলার জেরে প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই সম্ভাব্য জনরোষ এড়াতে এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সাধারণত নিয়মমাফিক আসামিদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলেও, উদয়ন গুহর ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না। জনরোষ রুখতে হাসপাতালের পরিবর্তে থানার ভেতরেই প্রতিদিন তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *