ভারী বৃষ্টিতে ভাঙল দুধিয়া ব্রিজ, বিপাকে পাহাড়ের পর্যটন ও জনজীবন

অবিরাম ভারী বর্ষণের জেরে দার্জিলিং জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুধিয়া ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। এর ফলে শিলিগুড়ির সঙ্গে মিরিক ও দার্জিলিংয়ের সরাসরি যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। পাহাড়ি রাস্তায় এই বিপর্যয়ের কারণে স্থানীয় জনজীবন স্থবির হওয়ার পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন দার্জিলিং ও কালিম্পং ঘুরতে যাওয়া পর্যটকেরা। দুধিয়া ব্রিজের এই ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুকনা টিসিপি মোড় থেকে কার্শিয়ং পর্যন্ত ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছে। তবে সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন সময় লেগে যেতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দার্জিলিং জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ ট্রাফিক অ্যাডভাইজ়ারি জারি করে বিকল্প রুট ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে এবং প্রাথমিকভাবে অন্তত ৪ সপ্তাহ ঘুরপথে যান চলাচল করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘোষিত বিকল্প রুটসমূহ
পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মিরিক থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার জন্য গাড়িগুলিকে মিরিক–সুখিয়াপোখরি–ঘুম–কার্শিয়ং রুট ব্যবহার করতে হবে। অপরদিকে, শিলিগুড়ি থেকে মিরিকগামী গাড়িগুলিকে সুকনা টিসিপি মোড় থেকে রোহিণী মোড়, কার্শিয়ং ও ঘুম হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হবে। কার্শিয়ং থেকে শিলিগুড়িগামী হালকা গাড়িগুলিকে পঙ্খাবাড়ি রোড হয়ে গাড়িধুরা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়ংমুখী গাড়িগুলিকেও সুকনা টিসিপি মোড় থেকে রোহিণী মোড় হয়ে বিকল্প পথে পাঠানো হচ্ছে। পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে, পাহাড় থেকে শিলিগুড়িগামী সমস্ত ভারী গাড়িকে কার্শিয়ং জিরো পয়েন্ট থেকে রোহিণী রোড ব্যবহার করতে হবে এবং শিলিগুড়ি থেকে পাহাড়গামী পণ্যবাহী গাড়িগুলিকে সুকনা টিসিপি মোড় ও রোহিণী মোড় হয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
প্রশাসন ও পর্যটকদের সতর্কতা
উত্তরবঙ্গে লাল ও কমলা সতর্কতা জারির মধ্যে এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় পাহাড়ি অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পর্যটন খাতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ এবং জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পং সফরে যাওয়া পর্যটকদের আবহাওয়ার আপডেটের উপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮০০-২১২১-৬৫৫ (টোল-ফ্রি) এবং ০৩৫৩-২৫১৩৯৮৬ নম্বর বিশিষ্ট বিশেষ হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।