বঙ্গোপসাগরে শক্তির মহড়া বাড়াতে একযোগে নামছে দেশীয় প্রযুক্তির ৩ যুদ্ধজাহাজ

বঙ্গোপসাগরে শক্তির মহড়া বাড়াতে একযোগে নামছে দেশীয় প্রযুক্তির ৩ যুদ্ধজাহাজ

ভারতের সমুদ্রসীমা রক্ষা এবং নীল অর্থনীতিতে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ভারতীয় নৌসেনা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে আগামী রবিবার বঙ্গোপসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে চলেছে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ। আধুনিক স্টিলথ ফ্রিগেট ‘ডুনাগিরি’, জরিপ জাহাজ ‘আইএনএস সংশোধক’ এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস অগ্রয়’ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে দেশের জলসীমা প্রতিরক্ষায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (জিআরএসই) দ্বারা নির্মিত এবং নৌসেনার ওয়ারশিপ ডিজাইন ব্যুরো কর্তৃক নকশাকৃত এই জাহাজগুলো ভারতের সামরিক ইতিহাসে এক বড় মাইলফলক।

প্রতিরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ও সক্ষমতা

নৌসেনার সূত্র অনুযায়ী, অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া তিনটি জাহাজেরই রয়েছে ভিন্ন ও বিশেষায়িত যুদ্ধ সক্ষমতা। এর মধ্যে প্রজেক্ট ১৭এ-র আওতাধীন স্টিলথ ফ্রিগেট ‘ডুনাগিরি’ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সেন্সরে সজ্জিত, যা ভূমি থেকে ভূমি এবং ভূমি থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বহনে পারদর্শী। অন্যদিকে, ‘আইএনএস সংশোধক’ দেশের চতুর্থ বৃহত্তম জরিপ জাহাজ হিসেবে উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রের হাইড্রোগ্রাফিক তথ্য সংগ্রহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। শত্রুর সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম আর্নালা শ্রেণির চতুর্থ যুদ্ধজাহাজ ‘আইএনএস অগ্রয়’ অগভীর সমুদ্রে যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় টর্পেডো, দেশীয় রকেট লঞ্চার এবং সোনার সিস্টেমে সজ্জিত। এই ত্রিমুখী শক্তির মেলবন্ধন বঙ্গোপসাগরে ভারতের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা বলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করবে।

আত্মনির্ভরতা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

এই তিন যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পেছনে ভারতের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ নীতির এক বড় প্রতিফলন দেখা গেছে। জাহাজগুলোর নির্মাণ সামগ্রীর ৭৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান সম্পূর্ণ স্বদেশী। এই বিশাল প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে দেশের ২০০টিরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) সরাসরি যুক্ত ছিল, যা দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে, বিশেষ করে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে যখন কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, তখন সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এমন যুদ্ধজাহাজের একযোগে সাগরে নামা ভারতের নৌ-প্রতিরক্ষা সক্ষমতার এক জোরালো বার্তা দিচ্ছে। বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর নজরদারির কেন্দ্রে থাকা এই সমুদ্র অঞ্চলে ভারতের এই শক্তি বৃদ্ধি আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *