শোভনদেবের বাড়িতে সিআইডি, সই জালিয়াতি মামলায় এবার ভবানীপুরে গোয়েন্দা হানা

কলকাতার রাজনৈতিক বৃত্তে চাঞ্চল্য বাড়িয়ে এবার বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ভবানীপুরের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন সিআইডি আধিকারিকরা। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ওঠা ‘সই জালিয়াতি’ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই গোয়েন্দাদের এই আকস্মিক হানা বলে জানা গেছে। এদিন সকালে শোভনদেবের বাসভবনে গিয়ে সিআইডির একটি দল প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, জিজ্ঞাসাবাদের সময় এই প্রবীণ নেতা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
তদন্তের নেপথ্যে দলীয় কোন্দল ও আইনি জটিলতা
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়ার পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে। এই সিদ্ধান্তের পরই তৃণমূলেরই একাংশের বিদ্রোহী বিধায়করা অভিযোগ তোলেন যে, সই জাল করে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই বিতর্কিত সই জালিয়াতির ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তদন্তভার হাতে নেয় সিআইডি। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই বিরোধী দলনেতা। বিধানসভা সচিবালয়ও শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করা আসাম্ভব বলে ঘোষণা করে, যা শাসক দলের অন্দরে বড়সড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের পরিধি ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই সই জাল কাণ্ডের তদন্তে সিআইডি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার আগে এই মামলার সূত্র ধরে সিআইডি একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার মুখোমুখি হয়েছে। এর আগে হরিশ মুখার্জি রোডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি প্রতিনিধি দল পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে তাঁকে নোটিশ ধরানো হয়। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সিআইডি দফতরে হাজিরা দিয়েছেন। এ ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষের মতো প্রথম সারির নেতাদের বাড়িতেও তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়েছে সিআইডি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক শীর্ষ সারির তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে সিআইডির এই হানা এবং বিধানসভার দলনেতা নির্বাচন নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিকভাবে বেশ চাপে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতিতে এবং তৃণমূলের অন্দরের সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।