চল্লিশ বছরের কেরিয়ারে চরিত্র চুরির অপবাদ, মর্মাহত প্রসেনজিৎ!

চল্লিশ বছরের কেরিয়ারে চরিত্র চুরির অপবাদ, মর্মাহত প্রসেনজিৎ!

দীর্ঘ চার দশক ধরে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎকে সমৃদ্ধ করার পর এবার চরিত্র চুরির অপবাদ জুটল খোদ ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কপালে। প্রেক্ষাগৃহে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অভিমান’ ছবির গল্প ও চরিত্র চুরির অভিযোগ তুলেছেন পরিচালক সুমন ঘোষ। প্রসেনজিৎ, যিশু সেনগুপ্ত এবং শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত এই বহু প্রতীক্ষিত ছবির মুক্তি ঘিরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে স্বভাবতই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে টলিপাড়ায়।

মর্মাহত প্রসেনজিৎ ও তাঁর আত্মপক্ষ সমর্থন

এমন বিস্ফোরক অভিযোগে রীতিমতো আহত প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর মতে, চল্লিশ বছরের সুদীর্ঘ কেরিয়ারে এমন চুরির অপবাদ অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। তবে তিনি পরিচালক সুমন ঘোষকে সরাসরি দোষারোপ না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশের তীব্র আক্রমণের দিকেই আঙুল তুলেছেন। নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে অভিনেতা জানিয়েছেন, একজন অভিনেতার আইপিআর (IPR) বা মেধাস্বত্বের ওপর কোনো অধিকার থাকে না, তিনি কেবল প্রস্তাবিত চরিত্রটি বাছাই করেন। কীভাবে একজন অভিনেতার পক্ষে চরিত্র চুরি করা সম্ভব, সেই যৌক্তিক বিষয়টিও তুলে ধরেছেন তিনি। ছবির গল্প নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তিনি প্রযোজনা সংস্থার উপরই আস্থা রেখেছেন।

প্রযোজনা সংস্থার কড়া বিবৃতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিতর্ক দানা বাঁধতেই আসরে নেমেছে ছবির প্রযোজনা সংস্থা। প্রযোজক যিশু সেনগুপ্ত এবং সৌরভ দাসের তরফ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, ‘অভিমান’ সম্পূর্ণ মৌলিক একটি ছবি। ছবির মূল ভাবনা যিশু সেনগুপ্তর নিজস্ব এবং এর চিত্রনাট্য ও সংলাপ তৈরি করেছেন পরিচালক ইন্দ্রাদ্বীপ দাশগুপ্ত ও শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া ও নথিপত্র মেনেই ছবির কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্মাতারা। মুক্তির দিনেই এমন গুরুতর অভিযোগ ছবির সুনামের ওপর কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও, এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে দর্শকের মধ্যে ছবিটি নিয়ে কৌতূহল আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তা বক্স অফিসে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *