অরুণাচল সীমান্তে চিনের বিশালাকার বাঁধ, ড্রাগনকে যোগ্য জবাব দিতে তৈরি ভারত!

তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর ওপর বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বেজিং। ভারতের অরুণাচল সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে চিনের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে চিনের এই আগ্রাসী পদক্ষেপের জবাবে হাত গুটিয়ে বসে নেই নয়াদিল্লিও। অরুণাচল প্রদেশে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট’ (SUMP) বাস্তবায়নের মাধ্যমে চিনকে যোগ্য জবাব দেওয়ার জোরদার প্রস্তুতি শুরু করেছে ভারত সরকার।
চিনের বাঁধের নেতিবাচক প্রভাব ও কৌশলগত উদ্বেগ
তিব্বতের মালভূমি থেকে উৎপন্ন ইয়ারলুং সাংপো নদীটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশে সিয়াং এবং আসামে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত, যা এই অঞ্চলের কৃষি, পানীয় জল এবং সামগ্রিক অর্থনীতির প্রধান জীবনরেখা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, চিনের এই বিশাল বাঁধের কারণে নিম্ন অববাহিকায় জলপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে জলসংকটের কারণে কৃষিকাজ ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যও চরম হুমকির মুখে পড়বে। এছাড়া, নদীবাহিত পলি কমে গেলে পরিবেশগত ভারসাম্য ব্যাহত হবে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, এই বিশাল জলরাশির নিয়ন্ত্রণ চিনের হাতে চলে গেলে, ভবিষ্যতে যেকোনো কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বেজিং একে চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। চিনের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশের ক্ষতি না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও ভারত তার ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছে না।
ভারতের মেগা কাউন্টার প্ল্যান
এই পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে চিনের জল-রাজনীতির পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ১.৫ লক্ষ কোটি টাকার ‘সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট’ হাতে নিয়েছে ভারত। প্রস্তাবিত এই মেগা প্রকল্প থেকে বার্ষিক প্রায় ১১,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা দেশের জলবিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করবে। তবে এই প্রকল্প কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; আকস্মিক বন্যা নিয়ন্ত্রণ, জল সংরক্ষণ এবং চিনের কারণে নদীর প্রবাহে সম্ভাব্য ক্ষতিকর পরিবর্তন মোকাবিলা করার মতো কৌশলগত দিকগুলো মাথায় রেখেই এর নকশা করা হয়েছে। চিনের সাথে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা আশানুরূপ ফল না দেওয়ায়, ভারত এখন নিজস্ব পরিকাঠামো শক্তিশালী করাকেই শ্রেয় মনে করছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় এই প্রকল্প আগামী দিনে ভারতের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠবে।