২০ জুন পেল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি স্বীকৃতি! ফিরে দেখা তারকেশ্বর যোগ ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাস

২০ জুন পেল পশ্চিমবঙ্গ দিবসের সরকারি স্বীকৃতি! ফিরে দেখা তারকেশ্বর যোগ ও রক্তক্ষয়ী ইতিহাস

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার সরকারিভাবে ২০ জুন পালিত হতে চলেছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার এই দিনটিকে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান করেছে। এর আগে পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ১ বৈশাখ দিনটিকে ‘বাংলা দিবস’ হিসেবে পালন করা হতো। এবারের পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঐতিহাসিক তারকেশ্বরে আয়োজিত এক জনসভায় উপস্থিত থাকছেন, যা এই দিনটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলেছে।

দেশভাগের প্রেক্ষাপট ও তারকেশ্বরের ভূমিকা

১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন পরবর্তীকালে ১৯৪৬ সালের ‘গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’-এর পর সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়। কলকাতার দাঙ্গার পর তৎকালীন বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহিদ সুরাওয়ার্দির ভূমিকা তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। দেশভাগের প্রাক্কালে সুরাওয়ার্দি, শরৎচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতারা স্বাধীন ও অবিভক্ত বাংলার প্রস্তাব সামনে আনেন। কিন্তু এর পালটা হিসেবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বাংলা ভাগের দাবি তোলেন। মেঘনাদ সাহা, যদুনাথ সরকারের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এই দাবির সমর্থন করেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই ১৯৪৭ সালের ৫ এপ্রিল হুগলির তারকেশ্বরে বঙ্গীয় প্রাদেশিক হিন্দু মহাসভার এক সম্মেলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দৃঢ় কণ্ঠে নিজেদের মাতৃভূমি অর্জনের ডাক দেন। এরপর ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বঙ্গীয় আইনসভায় ঐতিহাসিক ভোটাভুটির মাধ্যমে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার সদস্যদের সিদ্ধান্তে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের জন্ম হয়।

সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব

২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার এই সরকারি সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে মতাদর্শগত সংঘাত তীব্র হয়েছে। শাসকদল বিজেপির মতে, এই দিনটি নিছক ইতিহাস নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়, অস্তিত্ব রক্ষা এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীদের দাবি, এই দিনটির সঙ্গে দেশভাগ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং উদ্বাস্তু জীবনের করুণ ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অতীতে এমন বেদনাদায়ক দিনকে উৎসবের আবহে পালনের কড়া বিরোধিতা করেছেন। এই সরকারি স্বীকৃতি এবং তাকে ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের ফলে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে মেরুকরণ আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশভাগের ক্ষত ও ইতিহাস নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *