যুদ্ধবিরতির মাঝেই লেবাননে ইজরায়েলের ভয়ংকর হামলা, আমেরিকার কাছে জবাব চাইল ইরান!

চুক্তির পরেও থামেনি বোমাবর্ষণ
আমেরিকার মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের অশান্ত হয়ে উঠেছে লেবানন। শুক্রবার বিকেল চারটে থেকে ইজরায়েল ও হেজবোল্লার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল এবং উভয়পক্ষই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। তবে সেই সমঝোতাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শনিবার ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননজুড়ে লাগাতার হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। এয়ার স্ট্রাইক, ড্রোন হামলা এবং নাবাতিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় কামানের গোলাবর্ষণে একাধিক আবাসিক ভবন ও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ধূলিসাৎ হয়েছে। এই ভয়ংকর হামলায় অন্তত ১২ জনের প্রাণহানির খবর মিলেছে।
আমেরিকাকে ইরানের কড়া বার্তা এবং চুক্তির ভবিষ্যৎ
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির অন্যতম মূল ভিত্তি ছিল, ইজরায়েল ও আমেরিকাকে গ্যারান্টি দিতে হবে যে লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আর কোনও যুদ্ধ শুরু হবে না। এমনকী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেবানন ইস্যুতে আরও দায়িত্বশীল হতে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু বেইরুট ও দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলি সেনার এই লাগাতার আগ্রাসন যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্থায়িত্ব নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ইজরায়েলের এই পদক্ষেপের পর ইরান সরাসরি আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী ইজরায়েলকে থামানোর এবং লেবাননে হামলা বন্ধ করার সম্পূর্ণ দায় এখন ওয়াশিংটনের। আমেরিকাকে দ্রুত এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইজরায়েল দ্রুত এই আগ্রাসন বন্ধ না করলে মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ফের এক বৃহত্তর এবং ভয়াবহ সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে।