প্রস্রাব আটকে রাখার এই মারাত্মক অভ্যাসে ধ্বংস হচ্ছে আপনার কিডনি!

প্রস্রাব আটকে রাখার এই মারাত্মক অভ্যাসে ধ্বংস হচ্ছে আপনার কিডনি!

কাজের চাপ, যানজট কিংবা বাইরে সুলভ শৌচালয়ের অভাবের কারণে অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা প্রস্রাব আটকে রাখেন। আপাতদৃষ্টিতে এই অভ্যাসটিকে খুব সাধারণ মনে হলেও ইউরোলজিস্ট বা মূত্ররোগ বিশেষজ্ঞদের মতে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই এটি এক চরম ক্ষতিকর অভ্যাস। নিয়মিত এভাবে প্রস্রাব আটকে রাখার কারণে কিডনি ও মূত্রথলির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে, যা স্বল্প এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক প্রভাব

দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। মুম্বইয়ের সাইফি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট ডা. মঙ্গেশ পাটিলের মতে, এর ফলে স্বল্পমেয়াদে তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া এবং মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি, কারণ দীর্ঘক্ষণ মূত্রনালী খালি না হলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। বাইরে অপরিষ্কার শৌচালয় এড়াতে গিয়ে অনেকেই এই কাজ করেন, যার ফলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের স্ফটিক তৈরি হয় এবং মূত্রথলির ভেতরে প্রদাহ বা তীব্র ব্যথা সৃষ্টি হয়।

এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব আরও ভয়াবহ। নিয়মিত প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রথলির পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। ফলস্বরূপ মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি করা কঠিন হয়ে পড়ে, যা থেকে মূত্রথলিতে পাথর হওয়া এবং কিডনির ওপর উচ্চচাপ সৃষ্টির মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি এবং বাঁচার উপায়

প্রোস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগী, ডায়াবেটিস রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। মূত্রথলি ও কিডনি সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তরল পান করা আবশ্যক। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর প্রস্রাব করা উচিত এবং ভ্রমণের সময় বা বাইরে থাকলে পরিষ্কার শৌচাগার ব্যবহারে কখনওই অনীহা বা অবহেলা দেখানো উচিত নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *