৩০ পেরোতেই শরীরে বাসা বাঁধছে মারণরোগ! জেনে নিন বাঁচার উপায়

একসময় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার বা হৃদরোগকে কেবল বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে এই চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আধুনিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে ৩০ বছর বয়স পেরোতেই বহু মানুষ এখন নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের মতে, এর পেছনে শুধুমাত্র বংশগত বা জিনগত কারণ দায়ী নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের কিছু ক্ষতিকর অভ্যাসই মূলত এই অকাল অসুস্থতা ডেকে আনছে।
যে তিন অভ্যাসে বাড়ছে বিপদ
সফদরজং হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. যুগল কিশোরের মতে, গত দুই দশকে মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক বদল এসেছে। অনিয়মিত খাওয়া, ফাস্ট ফুডের প্রতি আসক্তি এবং দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার প্রবণতা রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, মূলত তিনটি বদভ্যাস এই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রথমত, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ। এটি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। দ্বিতীয়ত, কায়িক শ্রম বা ব্যায়ামের অভাব। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রায় শরীরচর্চার সুযোগ কমে যাওয়ায় ওজন বৃদ্ধি ও ডায়াবেটিস মারাত্মক আকার ধারণ করছে। তৃতীয়ত, ধূমপান ও মদ্যপান। তামাক ও অ্যালকোহলের প্রভাবে ফুসফুস ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো অকালেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ক্যান্সার এবং বিপাকজনিত নানা সমস্যার পথ প্রশস্ত করছে।
সুস্থ থাকতে চিকিৎসকদের পরামর্শ
এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে জীবনযাত্রায় দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অপরিহার্য। রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুভাষ গিরির পরামর্শ অনুযায়ী, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। রাত ১১টার মধ্যে ঘুমোতে যাওয়া এবং রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট যোগব্যায়াম, ধ্যান বা শরীরচর্চা করলে মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর ও মনকে সুস্থ রাখে। ভবিষ্যৎ বিপদের হাত থেকে বাঁচতে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে তরুণ বয়স থেকেই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বর্জন করা প্রয়োজন।