রাম মন্দির থেকে উধাও ৬০ কেজির রুপোর বার, তদন্তে বিশেষ দল

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া দানসামগ্রী ও বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তছরুপের অভিযোগ ঘিরে এবার তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। খোদ মন্দিরের রেকর্ড বুক থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে ভক্তদের দেওয়া ৬০ কেজি ওজনের রুপোর বার। রামলালার ‘প্রাণ প্রতিষ্ঠা’ অনুষ্ঠানের সময় দান করা এই বিপুল পরিমাণ রুপো কোথায় গেল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)।
লুকানো অপরাধ নাকি নথির গলদ
সূত্রের খবর, প্রাণ প্রতিষ্ঠার বিশেষ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্বর্ণকারদের অনুদানে এই ৬০ কেজি রুপোর বার তৈরি করেছিল একটি জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন। মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তরে ব্যবহারের জন্য ট্রাস্টের হাতে তা তুলেও দেওয়া হয়েছিল, যার রসিদ ও ছবি এখনও সংগঠনের কাছে সুরক্ষিত রয়েছে। তবে তদন্তকারীদের দাবি, গত ছয় দিন ধরে তল্লাশি চালিয়েও মন্দিরের নথিতে এই রুপো গ্রহণ, সংরক্ষণ বা ব্যবহারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। এমনকি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা পরবর্তী নির্মাণকাজেও এই রুপোর বারগুলো দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুধু রুপোর বারই নয়, মন্দিরে আসা সোনা, রুপো ও হিরের আসল অলঙ্কার বদলে নকল সামগ্রী রেখে দেওয়ার এবং নগদ অনুদানের একটা বড় অংশ আত্মসাৎ করার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে সিট ইতিমধ্যেই মন্দিরের গয়না ও দানসামগ্রী দেখভালের দায়িত্বে থাকা কৃষ্ণদেব তিওয়ারি এবং চারজন পুরোহিতসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যদিও এই নিখোঁজ সামগ্রী সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক তরজা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মন্দিরের কোটি কোটি টাকার দানসামগ্রী নিখোঁজের খবরের দিকে আঙুল তোলার পরেই পরিস্থিতি জটিল হয়। ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে গত ১৩ জুন উত্তরপ্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের ‘সিট’ গঠন করে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন লখনউয়ের কমিশনার ও আইজি পদমর্যাদার অফিসাররা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ভক্তদের আবেগের কেন্দ্রে থাকা এই মন্দিরের বিশ্বস্ততা ও অভ্যন্তরীণ পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় আইনি ও প্রশাসনিক সংস্কারের চাপ তৈরি হতে পারে। শুক্রবার অযোধ্যা সফরে গিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ অবশ্য তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর ভরসা রাখার কথা বলেছেন। তাঁর দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অযোধ্যাকে যেন কাঠগড়ায় দাঁড় করানো না হয়, দ্রুতই এই ঘটনার সত্য-মিথ্যা সামনে আসবে।