রাজনীতির ব্যস্ততায় ফিকে জামাই আদর, শ্বশুরবাড়িতে কৌস্তভ ও অনুপস্থিত মন্ত্রী দিলীপ!

রাজনীতির ব্যস্ততায় ফিকে জামাই আদর, শ্বশুরবাড়িতে কৌস্তভ ও অনুপস্থিত মন্ত্রী দিলীপ!

বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম হলো জামাইষষ্ঠী। তবে জনপ্রতিনিধিদের জীবনে উৎসবের চেয়ে অনেক সময়ই রাজনৈতিক দায়িত্ব বেশি প্রাধান্য পায়। সদ্য নির্বাচিত ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী এবং রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের এবারের জামাইষষ্ঠীর চিত্র অন্তত সেই বাস্তবতাই তুলে ধরেছে। একদিকে নতুন বিধায়কের শত ব্যস্ততার মাঝেও নিয়ম রক্ষার তাগিদ, অন্যদিকে মন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্বের চাপে পারিবারিক উৎসবে অনুপস্থিতি— দুই নেতার ব্যক্তিগত জীবনের ওপর রাজনীতির প্রত্যক্ষ প্রভাব এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ব্যস্ততার মাঝেই শ্বশুরবাড়িতে কৌস্তভ

গত নভেম্বরে বিয়ের পর এটিই ছিল কৌস্তভ বাগচীর প্রথম জামাইষষ্ঠী। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর শ্বশুরবাড়িতে এলাহি আয়োজনের প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর আগমন, পশ্চিমবঙ্গ দিবস এবং যোগ দিবসের প্রস্তুতির কারণে তাঁর হাতে সময় ছিল অত্যন্ত সীমিত। তা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি স্ত্রী প্রীতিকে নিয়ে শ্রীরামপুরে শ্বশুরবাড়িতে হাজির হন। শাশুড়ির জন্য শাড়ি ও আম-মিষ্টি নিয়ে গেলেও টানা রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে মাত্র ঘণ্টাখানেক সময় শ্বশুরবাড়িতে কাটান এই নতুন বিধায়ক।

মন্ত্রিত্বের চাপে জামাইষষ্ঠী মিস করলেন দিলীপ

অন্যদিকে, বিয়ের পর দ্বিতীয় জামাইষষ্ঠীতে অংশ নিতে পারলেন না মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। গতবার স্ত্রীর মামার বাড়িতে এই রীতি পালিত হলেও এবার খড়গপুরে সরকারি ও দলীয় কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকার কারণে তাঁর যাওয়া সম্ভব হয়নি। মন্ত্রী জামাইয়ের অনুপস্থিতিতে আত্মীয়দের আক্ষেপ মেটাতে তাই দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে মুকুন্দপুরে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এই ঘটনাগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক দায়িত্ব ও প্রশাসনিক পদমর্যাদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সময় ক্রমশ সংকুচিত হয়। নতুন বিধায়ক হিসেবে কৌস্তভ বাগচী কোনোমতে কিছুটা সময় বের করতে পারলেও, মন্ত্রী হিসেবে দিলীপ ঘোষের উপর কাজের চাপ এবং দায়িত্ব বেশি থাকায় তাঁকে পারিবারিক উৎসব থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে হয়েছে। বৃহত্তর প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত থাকার কারণেই যে নেতাদের অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের চিরাচরিত আনন্দ উৎসবগুলি ত্যাগ করতে হয়, এই জোড়া ঘটনাই তার বাস্তব প্রমাণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *