বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে নয়া মোড়! রেজোলিউশন কপি পেল সিআইডি

বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে নয়া মোড়! রেজোলিউশন কপি পেল সিআইডি

রাজ্য বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের বহুচর্চিত সই জাল কাণ্ডের তদন্তে আরও গতি আনল সিআইডি। শনিবার সকালে ভবানীপুরে দলের প্রবীণ নেতা তথা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে পৌঁছয় গোয়েন্দা সংস্থার ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। জানা গিয়েছে, বিধায়কের ডাকে সাড়া দিয়েই এদিন তাঁর বাড়িতে যান আধিকারিকরা। প্রায় ঘণ্টাখানেক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীদের হাতে দলীয় সভার বিতর্কিত রেজোলিউশনের কপি তুলে দেন তিনি।

বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ

তদন্তে দুশো শতাংশ সহযোগিতার বার্তা দিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সরাসরি চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন দলেরই বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, সইয়ের দিন মাত্র একজন ছাড়া বাকি সব বিধায়কই উপস্থিত ছিলেন। যাঁরা স্পিকারের কাছে জালিয়াতির অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন, তাঁরাই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জাল সই করে এই চক্রান্তের জাল বুনেছেন বলে তাঁর অভিযোগ। তবে বিষয়টি বিচারাধীন হওয়ায় এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি এই প্রবীণ নেতা। উল্লেখ্য, এর আগে চলতি মাসের ১১ ও ১৭ তারিখেও তাঁকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিআইডি।

মুষলপর্বের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই বিতর্কের সূত্রপাত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে মনোনীত করে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি পাঠান। কিন্তু স্পিকার সেই চিঠি খারিজ করে দেন। এরপরই দলের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্বাক্ষরে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্পিকার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। ফলস্বরূপ, তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি ফাটল ধরে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের তকমা পায়।

ইতিমধ্যে এই তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ একাধিক নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করেছে সিআইডি। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফাটল দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি করেছে। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, যার শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা। তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন পথে পরিচালিত করে, সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *