শেহবাজ সরকারকে চরম অস্বস্তিতে ফেলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভান্স!
সম্প্রতি আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের চুক্তি নিয়ে মধ্যস্থতার মঞ্চে পাকিস্তানের সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও, খোদ মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকেই এবার চরম অস্বস্তিতে পড়তে হলো শেহবাজ শরিফের সরকারকে। যুক্তরাষ্ট্রের উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভান্স একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে সরাসরি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠার যে চিত্র দেখা যাচ্ছিল, এই মন্তব্যের ফলে বিশ্ব কূটনৈতিক মঞ্চে তা বড়সড় ধাক্কা খেল।
আমেরিকা-ইরান চুক্তির তথ্য প্রকাশে বিলম্ব কেন?
গত ১৫ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকা-ইরান অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির ঘোষণা করলেও, এর সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর বিস্তারিত বয়ান প্রকাশে দু’দিন দেরি হয়। এই বিলম্ব নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে ট্রাম্প প্রশাসন। বিরোধীদের দাবি ছিল, ইরানকে হয়তো বড় কোনো ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং তা আড়াল করতেই তথ্য গোপন করা হচ্ছে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জেডি ভান্স জানান, চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম কারণ ছিল পাকিস্তান ও কাতারের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার অভাব। তাঁর মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট’ বা বাক-স্বাধীনতার নিশ্চয়তার মতো কোনো আইন ওই দেশগুলোর ব্যবস্থায় নেই। তাই চুক্তির বয়ান মার্কিন জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই সময় নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ
মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির এই সরাসরি সমালোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ করল। বিশ্ব সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান এমনিতেই ১৫৩তম। এই পরিস্থিতিতে মিত্র দেশ আমেরিকার তরফ থেকে এমন প্রকাশ্য মন্তব্য পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের বিষয়টিকে বিশ্বের সামনে আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আগামী দিনে ইসলামাবাদকে যথেষ্ট ব্যাকফুটে থাকতে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।