দীর্ঘ সংঘাতের পর কি গলতে শুরু করল ভারত-চিন সম্পর্কের বরফ!

প্রায় ছয় বছর ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনা, কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের আবহ কাটিয়ে অবশেষে ইতিবাচক মোড় নিতে চলেছে ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে শীঘ্রই ভারত সফরে আসতে চলেছেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে নজিরবিহীন অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অভিমুখে এই সফরকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে কূটনৈতিক মহল।
টানাপোড়েনের ইতিহাস ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
২০২০ সালের জুনে লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনার মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত-চিন সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং কূটনৈতিক তিক্ততা দুই দেশের সম্পর্ককে তলানিতে নিয়ে ঠেকেছিল। তবে বিগত দুই বছরে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে ধারাবাহিক আলোচনার পর সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। চিনের বিদেশমন্ত্রীর এই সম্ভাব্য সফরে মূলত সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে স্থান পেতে পারে।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিকস (BRICS) এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (SCO) মতো বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও চিন উভয়ের ভূমিকাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াং ই-র এই সফর সফল হলে তা কেবল দুই দেশের সম্পর্কের বরফই গলাবে না, বরং এশীয় অঞ্চলের সামগ্রিক ভূ-রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। যদিও পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের ঘনিষ্ঠতা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কৌশলগত প্রতিযোগিতার মতো জটিল বিষয়গুলো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবুও, সংঘাতের পথ পরিহার করে শীর্ষ স্তরের এই দ্বিপাক্ষিক সংলাপ ভবিষ্যতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।