বাঙালি পরিচয় রক্ষা ও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্যে শ্যামাপ্রসাদকে স্মরণ মোদীর

পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে টিকে থাকার নেপথ্যে রয়েছে এক রক্তক্ষয়ী ইতিহাস এবং বাঙালি অস্মিতা রক্ষার দীর্ঘ লড়াই। শনিবার তারকেশ্বরের হাই-প্রোফাইল জনসভা থেকে দেশভাগের সেই যন্ত্রণাকাতর দিনগুলির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাঙালি নিজের মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছে, কিন্তু নিজের পরিচয় ও অস্মিতা কখনও নষ্ট হতে দেয়নি। একই সঙ্গে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অস্তিত্ব রক্ষার পেছনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক ও অমূল্য অবদানকে আরও একবার দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন তিনি।
ইতিহাসের পাতা ও ২০ জুনের তাৎপর্য
১৯৪৭ সালের ২০ জুন অবিভক্ত বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় ভোটাভুটির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত পাস হয়েছিল। মূলত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতা ও ‘হিন্দু হোমল্যান্ড মুভমেন্ট’-এর ফলেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গ্রাস থেকে আজকের পশ্চিমবঙ্গ রক্ষা পায়। এই দিনটির গুরুত্ব স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে জানান, ২০ জুন দিনটি নিশ্চিত করেছিল যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অংশ হিসেবেই থাকবে। ২০২৬ সালে ড. মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে এই দিনটি এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চক্রান্ত চলছিল, তখন কংগ্রেস লড়াই ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছিল। কিন্তু সেই কঠিন সময়ে একমাত্র শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাকে রক্ষা করেন।
স্মৃতি সংরক্ষণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপনের তারিখ নিয়ে রাজ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে পালন করা হলেও, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ২০ জুন দিনটিকেই সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এই ঐতিহাসিক দিনটিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কলকাতার বুকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন এবং তাঁর পৈতৃক ভিটে সরকারি উদ্যোগে কিনে সেখানে লাইব্রেরি ও স্মৃতিসৌধ গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০ জুনের এই উদযাপন শুধু ইতিহাস স্মরণেই সীমাবদ্ধ নয়, এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ড. মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, তেমনই রাজ্যে তোষণ ও অনুপ্রবেশের রাজনীতির বিরুদ্ধে নতুন করে আদর্শগত লড়াইয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলো।