আর্থিক অনটন রুখতে পারেনি স্বপ্ন, হাবিলদার থেকে সেনার লেফটেন্যান্ট হলেন গুসকরার চিরঞ্জিত!

পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা শহরের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন সংগ্রাম আজ বহু তরুণের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। চরম আর্থিক প্রতিকূলতাকে জয় করে তিনি ভারতীয় সেনার হাবিলদার পদ থেকে সরাসরি লেফটেন্যান্ট পদে উন্নীত হয়েছেন। মেধা ও অদম্য জেদ থাকলে যে কোনো বাধাই যে সাফল্যের পথে কাঁটা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন গুসকরার এই তরুণ।
দারিদ্র্যের কাছে হার না মানা এক লড়াই
ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী চিরঞ্জিত ২০১৩ সালে বিজ্ঞান বিভাগে ৭৮ শতাংশ নম্বর নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর জয়েন্ট এন্ট্রান্স উত্তীর্ণ হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। কিন্তু তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন একটি বেসরকারি হিমঘরের স্বল্প বেতনের কর্মচারী। আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে দু’বছর পর বাধ্য হয়েই তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়া মাঝপথে ছাড়তে হয়। তবে এই ঘটনা তাঁকে হতাশ করেনি। ২০১৫ সালে তিনি হাবিলদার পদে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি নিজের পড়াশোনা ও প্রস্তুতি চালিয়ে যান এবং জীবনের এই কঠিন অধ্যায়টিকে ব্যর্থতা হিসেবে না দেখে শিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করেন।
সাফল্যের শিখরে উত্তরণ ও আগামী দিনের প্রেরণা
নিরন্তর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি ইউপিএসসি স্তরের এসএসবি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে সুযোগ পান। চার বছরের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে গত ১৩ জুন তিনি লেফটেন্যান্ট হিসেবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হন এবং স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে শংসাপত্র গ্রহণ করেন। বর্তমানে শিখ রেজিমেন্টের শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে তিনি রাঁচিতে যোগ দিতে চলেছেন। চিরঞ্জিতের এই অভাবনীয় সাফল্য তাঁর পরিবার ও গোটা গুসকরাবাসীকে গর্বিত করেছে। আর্থিক কারণে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই ঘুরে দাঁড়ানোর ঘটনা আগামী দিনে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে ইচ্ছুক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়াদের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে।