বাংলায় চাকরির বড় সুযোগ, তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে বয়স সীমার ছাড় নিয়ে বড় বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

রাজ্যে দু’দিনের সফরে এসে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্পের ডালি সাজালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন উপলক্ষে তারকেশ্বরের এক বর্ণাঢ্য জনসভা থেকে রাজ্যের কর্মসংস্থান ও সরকারি প্রকল্প নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেন তিনি। ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নতুন সরকার রাজ্যে চাকরির জোয়ার আনতে চলেছে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে এই মঞ্চ থেকে।
প্রতিশ্রুতি পূরণ ও চাকরিতে বয়সের ছাড়
তারকেশ্বরের সভামঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনের আগে বাংলায় বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতি মেনেই চাকরিতে বয়সের ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু হয়ে গেছে। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে আটকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়া সচল করতে এবং যুবসমাজকে স্বস্তি দিতেই এই বয়সের ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা নেবে।
উন্নয়নের জোয়ার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা
রাজ্যে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার আসার পর পরিকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক কাজের গতি যে বহুগুণ বেড়েছে, তা মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। এই মঞ্চ থেকেই তিনি রেল, কৃষি এবং মৎস্য পালন সংক্রান্ত প্রায় ৮২০ কোটি টাকার একগুচ্ছ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর পাশাপাশি রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এবং ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা দেওয়ার কাজ সফলভাবে শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভাষণে পূর্বতন সরকারের কড়া সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, বাংলায় সিন্ডিকেটরাজ ও কাটমানি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। জনগণের টাকা যাঁরা লুঠ করেছে, তাঁদের থেকে সেই অর্থ উদ্ধার এবং অপরাধীদের জেলে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বাম ও তৃণমূল আমলের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কাটিয়ে বাংলার সামগ্রিক বিকাশের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার এখন দ্বিগুণ গতিতে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।