৪ বছরে ১৫০ কোটি! তৃণমূলের ‘আকাশ-বিলাস’ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

৪ বছরে ১৫০ কোটি! তৃণমূলের ‘আকাশ-বিলাস’ ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট প্রকাশ হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী খরচ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গত চার বছরে বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ দলটির খরচ হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। কোনো একটি আঞ্চলিক দলের পক্ষে এই পরিমাণ অর্থ আকাশপথে যাতায়াতের পেছনে ব্যয় করা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আরও চমকপ্রদ তথ্য হলো, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটির মোট খরচের অর্ধেকেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ টাকাই চলে গেছে বিমানভাড়ায়।

অভিষেকের ‘প্রাইভেট জেট’ ও দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ

দলীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, এই বিপুল খরচের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের সময় ছাড়া বাকি সময়ে রাজ্য সরকারের বিমান ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করায় তাঁর পেছনে দলের তহবিল থেকে এই খরচ করতে হয়নি। লোকসভা নির্বাচনে দেশজুড়ে বিজেপি বিমানভাড়ায় ১৭৪ কোটি টাকা খরচ করলেও, একক রাজ্য হিসেবে তৃণমূলের খরচের অনুপাত জাতীয় দলটিকেও টেক্কা দিয়েছে।

সাংসদ হিসেবে যেখানে যাত্রীবাহী বিমানের বিজনেস ক্লাসের টিকিট পাওয়া যায়, সেখানে কেন ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করা হলো, তা নিয়ে দলের অন্দরেই এখন ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয় এবং দলের অভ্যন্তরীণ ভাঙনের পর এই ‘আকাশ-বিলাস’ নিয়ে প্রকাশ্যেই মুখ খুলছেন অনেক শীর্ষ নেতা। কর্মসমিতির সদস্য কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, দলীয় তহবিল থেকে প্রাইভেট জেট চড়া তিনি সমর্থন করেন না। অন্যদিকে তৃণমূল স্তরের কর্মীরা যখন আইনি বা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন না, তখন এই বিলাসিতা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিদ্রোহী নেতারা।

আর্থিক সংকট ও আগামী দিনের প্রভাব

এই বিতর্কের মাঝেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, যেখানে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা গচ্ছিত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই বিপুল অর্থের অ্যাকাউন্ট ফিরে পেতে দলকে এখন দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। একদিকে আকাশচুম্বী খরচের খতিয়ান নিয়ে জনমানসে তৈরি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব, অন্যদিকে দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ হওয়া—সব মিলিয়ে তৃণমূলের অন্দরে আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *