ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবলে সময়মতো সবার হিসেব চুকানো হবে, শাসকদলকে চরম হুঁশিয়ারি সুকান্তর!

ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবলে সময়মতো সবার হিসেব চুকানো হবে, শাসকদলকে চরম হুঁশিয়ারি সুকান্তর!

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদারের এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে তিনি রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দলীয় সমীকরণ নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেছেন। সুকান্ত বাবুর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে আরও অনেক রাজনৈতিক রদবদল বা আসা-যাওয়া দেখা যাবে, যার প্রভাবে শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস দল হিসেবে আদৌ টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও বজবজের হিংসা

বজবজের সাম্প্রতিক হিংসাত্মক ঘটনার কারণ হিসেবে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জিকে বেনজির নিশানা করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, বজবজে তৃণমূলের লোকেরাই এক ব্যক্তিকে মারধর করেছে এবং সেখানে এক অশান্ত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী সরিনা বিবির গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, পুলিশ পাশ থেকে একটু সরতেই শাসক দলের সমস্ত ‘যুবরাজ’ আর ‘পুষ্পাদের’ হাওয়া পাংচার হয়ে গেছে। চক্রান্ত করে এলাকার মহিলাদের খেপিয়ে তুলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর হামলার কারণেই পুলিশ নিজের কড়া রূপ দেখাতে বাধ্য হয়েছে এবং এই গ্রেপ্তারি সম্পন্ন হয়েছে। তৃণমূলকে সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বিজেপির ভদ্রতাকে যেন কেউ দুর্বলতা না ভাবেন, কারণ সময়মতো সবার খাতার হিসেব চুকানো হবে।

সংসদীয় সমীকরণ ও শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য বদল

এই রাজনৈতিক সংঘাত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের সংসদীয় ক্ষেত্র এবং শিক্ষা ব্যবস্থাতেও। বিধানসভার ভেতরে সমীকরণ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার জানান, মমতা পন্থী গোষ্ঠী শোভন বাবুকে বিরোধী দলনেতা করতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত স্পিকার ঋতব্রতবাবুকেই সেই পদে বেছে নিয়েছেন। এর পাশাপাশি, রাজ্যের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে দলের ইতিবাচক ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যটি কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল এবং এর পেছনে আসল অবদান কাদের ছিল, তা আজকের শিক্ষার্থীদের জানার স্বার্থে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে আগামী জনকল্যাণমুখী বাজেট এবং দলের ‘ভরসাপত্র’ অনুযায়ী রোডম্যাপ মেনে সমস্ত কাজ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *