‘অনুদান নয়, কর্মসংস্থান’! বিপুল ঋণের চাপে কেমন হতে চলেছে শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেট?
June 21, 20265:51 pm

কলকাতা: রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর সকলের নজর এখন ২২ জুনের দিকে। আগামী সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের জন্য রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম অর্থনৈতিক দর্শনের দলিল।
বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য চমকগুলো একনজরে:
- সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ‘ঋণের পাহাড়’: নবান্নের সামনে এখন সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা রাজ্যের বিপুল ঋণ। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে ৭.১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ঋণের বোঝা। বছরে শুধু পুরনো ঋণের সুদ মেটাতেই চলে যায় প্রায় ৪৯ হাজার কোটি টাকা! এই প্রবল আর্থিক চাপের মাঝে শিল্পায়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটাই অর্থমন্ত্রীর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
- ‘অনুদান নয়, কর্মসংস্থান’-এ জোর: নতুন সরকারের বাজেটের মূল থিম হতে চলেছে— “ভাতা-নির্ভরতা থেকে সম্পদ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি”। শিল্প বিনিয়োগ টানতে ‘ইজ অব ডুইং বিজনেস’-এ জোর দিয়ে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থা এবং লাইসেন্স রাজ কমানোর স্পষ্ট দিশা থাকতে পারে। পাশাপাশি, ঋণের চাপ কমাতে তৈরি হতে পারে বিশেষ ‘ডেট ম্যানেজমেন্ট সেল’।
- ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ অতীত, আসছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’: আগের সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বদলে নতুন রূপ নিচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। সরকার আগেই স্পষ্ট করেছে, এই প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী যোগ্য মহিলাদের সরাসরি মাসিক ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
- ভুয়ো উপভোক্তা ছাঁটাইয়ে কড়া পদক্ষেপ: সামাজিক প্রকল্পের আর্থিক দায় সামলাতে কড়া ফিল্টারিংয়ের পথে হাঁটছে নবান্ন। আধার ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ২২ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তাকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আয়করদাতা, সরকারি চাকুরিজীবী এবং পেনশনভোগীদের এই প্রকল্পের বাইরে রাখতে বাজেটে কড়া আয়ের ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলার অর্থনীতির জন্য এটি কেবল একটি বাজেট নয়, বরং নতুন সরকারের শিল্প ও কর্মসংস্থানমুখী রোডম্যাপের প্রথম বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।