বৌদির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে দাদাকে নৃশংস খুন! ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্যভেদ করল পুলিশ

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় পারিবারিক সম্পর্কের চরম জটিলতা থেকে এক নজিরবিহীন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে। বৌদির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে নিজের আপন দাদাকেই খুন করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডে নিহতের স্ত্রীকেও সমানভাবে দায়ী করে তাকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অন্ধকূপ রহস্যের কিনারা করেছে আগ্রা পুলিশ।
মাঠের ধারে রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার
গত বুধবার আগ্রার সদর বাজার থানার অন্তর্গত সুলতানপুরা এলাকার একটি মাঠের ধারে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহে একাধিক আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন দেখে প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশের সন্দেহ হয় যে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অন্য কোনও নির্জন জায়গায় খুন করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি এখানে এনে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশি সনাক্তকরণে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সোলু (৩২)।
বিয়ের মাত্র তিন মাসের মধ্যে পরকীয়ার বলি
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক বিশেষ দল গঠন করে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তকারীদের জালে দ্রুতই ধরা পড়ে ভেতরের আসল রহস্য।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:
- নতুন বিয়ে ও পরকীয়া: পুলিশ জানিয়েছে, মাত্র তিন মাস আগেই সোলুর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তাঁর নববিবাহিত স্ত্রী এবং সোলুর ছোট ভাই ভোলার মধ্যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- আপত্তি ও বাধা: একসময় সোলু তাঁদের এই পরকীয়া সম্পর্কের কথা হাতেনাতে জেনে যান এবং এতে তীব্র আপত্তি জানান। এই নিয়ে ঘরে অশান্তি চরমে পৌঁছায়।
- খুনের চক্রান্ত: নিজেদের অবৈধ সম্পর্কের পথের কাঁটা চিরতরে সরাতেই সোলুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা করে তাঁর স্ত্রী ও ভাই ভোলা।
পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা ও শেষ রক্ষা
পরিকল্পনা অনুযায়ী সোলুকে নৃশংসভাবে খুন করার পর তাঁর দেহ বাড়ির কাছের একটি মাঠে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে অভিযুক্তরা নানা ধরণের মনগড়া গল্প ফাঁদলেও, পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে ভোলা ও সোলুর স্ত্রী।
নিজেদের অপরাধের কথা স্বীকার করার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত ভোলা এবং নিহতের স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন ও তথ্যপ্রমাণ লোপাট সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে সদর বাজার থানার পুলিশ।