৪০ কোটিতে দলবদল? মহুয়ার বিরুদ্ধে মামলার হুঁশিয়ারি, আরজি কর নিয়ে বিস্ফোরক কাকলি!

নয়াদিল্লি: সংসদ থেকে বিধানসভা— সর্বত্রই এখন আড়াআড়ি বিভক্ত তৃণমূল কংগ্রেস। ‘কালীঘাট’ বনাম ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের এই রাজনৈতিক তরজায় এবার নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠল আরজি কর কাণ্ড! একদিকে দলবদল নিয়ে মহুয়া মৈত্রের বিস্ফোরক অভিযোগ, অন্যদিকে আরজি কর ইস্যুতে পালটা তোপ দেগে মহুয়ার বিরুদ্ধেই মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিলেন সদ্য ‘এনসিপিআই’ (NCPI) দলে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

আরজি কর নিয়ে কাকলির চাঞ্চল্যকর পোস্ট রবিবার নিজের এক্স-হ্যান্ডেলে (X) একাধিক পোস্ট করেন বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি। তিনি লেখেন, ‘আরজি কর কাণ্ডের প্রকৃত ধর্ষকের ফাঁসি চাই।’ একইসঙ্গে অভয়ার জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে সরব হন তিনি। সঞ্জয় রায়কে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পরেও বর্ষীয়ান সাংসদের এই ‘প্রকৃত ধর্ষক’ মন্তব্য ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সিবিআই বা পুলিশের তদন্তের বাইরে গিয়ে অন্য কোনও দিকে ইঙ্গিত করতে চাইছেন তিনি।

মহুয়া বনাম কাকলি তরজা সম্প্রতি কাকলি, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ ‘এনসিপিআই’ নামে নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্ব একে অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছে। এই আবহেই এক্স-পোস্টে মহুয়া মৈত্র এনসিপিআই-এর ফেসবুক পেজ তুলে ধরে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, “তৃণমূলের প্রতীকে জেতা এই ২০ জন মোটেই দরিদ্র নন, আশা করি এঁরা বিশ্বাসঘাতকদেরও সহায়তা করতে পারবেন।”

মহুয়ার এই খোঁচায় চুপ থাকেননি কাকলি। পালটা তোপ দেগে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “দরিদ্র রোগীদের ওষুধের টাকা লুটের প্রতিবাদ করতে গিয়েই অভয়ার মৃত্যু হয়েছিল। আপনি কি সেই দিন আরজি করের ওই পার্টির অংশ ছিলেন? আপনি কি অভয়ার পাশে আছেন, নাকি নেই?”

৪০ কোটির ‘ঘুষ’ ও মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি এর আগে গত বুধবার মহুয়া মৈত্র দাবি করেছিলেন, এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া বিদ্রোহী সাংসদরা প্রত্যেকে ৪০ কোটি টাকা করে পেয়েছেন (চার কোটি এককালীন এবং বাকিটা কিস্তিতে)। মহুয়ার এই বিস্ফোরক দাবিতেই প্রবল ক্ষুব্ধ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়ের মতো বিদ্রোহী সাংসদরা। সূত্রের খবর, এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে এবার মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। সম্প্রতি ২০ জন সাংসদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকেও এই আইনি পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *