ঘাসফুলে ভাঙন, চাঙ্গা বিরোধীরা! তৃণমূলের জমিতেই এবার ‘ঘর’ বাঁধছে বাম-কংগ্রেস

কলকাতা: মাত্র ১৫ বছরের ব্যবধানে বঙ্গ রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব উলটপুরাণ। একসময় যে বাম ও কংগ্রেসের সংগঠন ভেঙে নিজেদের শক্তিবৃদ্ধি করেছিল তৃণমূল, আজ সেই ঘাসফুলের জমিতেই ফের ‘ঘর’ বাঁধার স্বপ্ন দেখছে বিরোধীরা। নির্বাচনে ভরাডুবির পর শাসকদলের অন্দরে রোজ যে ভাঙনের ছবি ধরা পড়ছে, তাকেই নিজেদের পুনরুত্থানের সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বাম ও কংগ্রেস।
দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ সৈনিকরা কেউ দল ছাড়ছেন, কেউ বা হয়ে পড়ছেন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, স্থানীয় স্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগই বিরোধীদের সামনে এই নতুন সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
তৃণমূল ছেড়ে আসা বিক্ষুব্ধদের নিজেদের দলে টেনে সংগঠন মজবুত করতে কোন পথে হাঁটছে বাম-কংগ্রেস?
- কংগ্রেসের মেগা প্ল্যান: প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, দলের দরজা সবার জন্য খোলা, তবে দুর্নীতিগ্রস্তদের দলে নেওয়া হবে না। আগামী দিনে খোদ রাহুল গান্ধীকে কলকাতায় এনে এক বিশাল যোগদান কর্মসূচির ছক কষছে হাত শিবির।
- সিপিএমের কৌশল: আগামী ২৩ ও ২৪ জুন সিপিএমের রাজ্য কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানেই ভবিষ্যৎ কৌশল ঠিক হবে। বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দলে যোগদানের নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে, তবে বাইরে থেকে সমর্থন করতে কোনো বাধা নেই।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব বিরোধীদের এই দাবি মানতে নারাজ। শাসকদলের সাফ কথা, দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে দলের সামগ্রিক শক্তি বিচার করা বোকামি। তবে তৃণমূলের অন্দরের এই টানাপোড়েন আর ভাঙনকে পুঁজি করে বাংলায় নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।