ডিএ-র রোডম্যাপ থেকে সিঙ্গুরে টাটা, শুভেন্দু সরকারের প্রথম বাজেটে বিপুল চমকের প্রত্যাশা বঙ্গবাসীর

স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম গঠিত হয়েছে ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম রাজ্য বাজেট আজ বিধানসভায় পেশ করতে চলেছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। স্বাভাবিকভাবেই এই বাজেট ঘিরে রাজ্যবাসীর প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। আগামী পাঁচ বছর রাজ্য কোন দিশায় এগোবে এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তার একটি স্পষ্ট রূপরেখা মিলবে এই বাজেটে।
সরকারি কর্মীদের ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন
এই বাজেটের দিকে সবচেয়ে বেশি নজর রয়েছে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ নিয়ে চলা টানাপোড়েনের অবসান ঘটাতে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বকেয়া ডিএ মেটানো এবং সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একবারে না হলেও ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ মেটানোর একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারেন অর্থমন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে এবার ১২ শতাংশ পর্যন্ত ডিএ বৃদ্ধির জল্পনাও তৈরি হয়েছে।
সিঙ্গুরে শিল্পের বার্তা ও কৃষিতে নতুন স্কিম
শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এই বাজেটে বড়সড় চমক আসতে পারে, যার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে সিঙ্গুর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সিঙ্গুরে পুনরায় টাটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে এবং শিল্প পুনর্গঠন দফতর ইতিমধ্যে বেশ কিছু বড় প্রকল্পের প্রস্তাব পেয়েছে। ফলে এবারের বাজেট অত্যন্ত শিল্পমুখী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। পাশাপাশি, কৃষি ক্ষেত্রকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি বিমা’ সহ একাধিক কৃষক দরদি প্রকল্প রাজ্যে চালু করা এবং সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে ভর্তুকির জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হতে পারে।
ঋণের বোঝা ও কেন্দ্রের বিশেষ প্যাকেজের জল্পনা
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঘাড়ে প্রায় ৭.৬ লাখ কোটি টাকার বিপুল ঋণের বোঝা রয়েছে। এই বিপুল ঋণ সামাল দিয়ে জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো সচল রাখা নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাজ্যে ও কেন্দ্রে একই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকায় ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’-এর হাত ধরে বাংলার জন্য একটি বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জল জীবন মিশন সহ কেন্দ্রের একাধিক থমকে থাকা স্কিম রাজ্যে পুরোদমে চালু করতে এই বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হতে পারে।