মস্কোর আকাশে ইউক্রেনীয় ড্রোনের ঝাঁক, বন্ধ ৪টি প্রধান বিমানবন্দর

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর আকাশে ঝাঁকে ঝাঁকে ইউক্রেনীয় ড্রোন হানা দিয়েছে। সোমবারের এই বড় ধরনের হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে মোট ৫৯টি ড্রোন গুলি করে নামানো হয়েছে। তবে বিমান চলাচলের সার্বিক সুরক্ষার কথা ভেবেই বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। মস্কোর মেয়র সারগেই সোবিয়ানিন টেলিগ্রামে এই ড্রোন ধ্বংসের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জ্বালানি পরিকাঠামো ও দূরপাল্লার হামলার নতুন কৌশল
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দূরে রাশিয়ার উরাল অঞ্চলের টিউমেনে অবস্থিত একটি বড় বেসরকারি তেল শোধনাগারে সফল হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এর আগে গত শনিবারও এই উরাল অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছিল। মূলত রুশ সেনার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে তেল ডিপো ও শোধনাগারগুলোকে মূল লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে ইউক্রেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, তারা এখন ৩,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার দূরপাল্লার ড্রোন তৈরি করছে, যা এই গভীর হামলার প্রধান কারণ।
পাল্টা হামলা ও যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব
ইউক্রেনের এই লাগাতার ড্রোন হামলার ফলে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে রাশিয়াও বসে নেই, তারাও ইউক্রেনের ওপর পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। গত রবিবার দক্ষিণ ইউক্রেনের ওডেসার একটি কৃষি পরিকাঠামোয় রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্র এখন কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা রাশিয়ার অভ্যন্তরে ও অর্থনৈতিক পরিকাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।