ধারের টাকা ফেরত না পেয়ে হাওড়ায় গৃহবধূ খুন, ধৃত যুবকের হাড়হিম করা স্বীকারোক্তি!

হাওড়ার শিবপুরে রবিবার ভরসন্ধেয় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে এক পাওনাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওলাবিবি তলা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে মধ্য হাওড়ার কাসুন্দিয়া শিবতলার বাসিন্দা রাজদীপ মুখোপাধ্যায় নামে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গৃহবধূর নাম ভারতী হাজরা। ধৃত যুবক প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই পুলিশের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে।
মায়ের ক্যানসার ও চরম আক্রোশের জের
ধৃত রাজদীপের দাবি, তিনি ভারতী হাজরাকে চড়া সুদে দেড় লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি রাজদীপের মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ায় তিনি হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে টাকা ফেরত চাইলে ওই গৃহবধূ টাকা দিতে অস্বীকার করেন এবং ফোনে গালিগালাজ করে তাঁর মায়ের মৃত্যু কামনা করেন। এই চরম অপমানে আক্রোশের বশে উত্তেজিত হয়ে রাজদীপ একটি ছুরি কেনেন এবং ওই মহিলাকে আবাসনের নিচে ডেকে এনে গলার নলি কেটে খুন করেন।
বয়ানসংঘাত ও আইনগত পদক্ষেপ
অন্যদিকে, নিহত মহিলার স্বামী সুব্রত হাজরা সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর মতে, বিশেষ প্রয়োজনে রাজদীপের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নেওয়া হয়েছিল এবং তা নিয়মিত শোধও করা হচ্ছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে পুরো টাকা এককালীন শোধ করার জন্য তাঁদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি ও লোক পাঠিয়ে খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। টাকার আসল অঙ্ক ও লেনদেনের এই বৈপরীত্য এখন পুলিশের তদন্তের মূল বিষয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত সুদের কারবার এবং পারিবারিক সংকটের মুহূর্তে আক্রোশ ও মানসিক নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে স্থানীয় এলাকায় চড়া সুদের বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। নিহত মহিলার দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে এবং সোমবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।