তৃণমূলে বিরাট ভাঙন! ‘আসল’ তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় ফিরহাদ-অরূপদের বহিষ্কার করলেন মমতা

রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন পালাবদল। শোকজের উত্তর পাওয়ার আগেই ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খান, রথীন ঘোষের মতো হেভিওয়েট নেতাদের দল থেকে পাকাপাকিভাবে বহিষ্কার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল শিবিরে যোগদান এবং বিকল্প কমিটি গঠনের জেরেই মঙ্গলবার দুপুরে এই চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করে কালীঘাট তৃণমূল নেতৃত্ব।
বিকল্প শিবিরের উত্থান ও কারণ
সোমবার নিউটাউনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দলের বিশেষ অধিবেশনে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি ঘোষণা করা হয়। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই কমিটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও জায়গা হয়নি। দলের চেয়ারপার্সন পদে বসেন অরূপ রায় এবং সাধারণ সম্পাদক হন ঋতব্রত-সহ চারজন। দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জাভেদ খানরা এই নতুন শিবিরে যোগ দেওয়ায় সোমবার রাতেই তাঁদের শোকজ করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে সেই শোকজের উত্তরের অপেক্ষা না করেই মঙ্গলবার তাঁদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতদের তালিকায় রয়েছেন অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন এবং স্নেহাশিস চক্রবর্তীও।
রাজ্য রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
শাসক দলের অন্দরে এই বিরাট ফাটল রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে চলেছে। দলের শীর্ষস্তরের এবং দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নেতাদের এই দলবদল কালীঘাট তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোকে বড়সড় ধাক্কা দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ‘আসল’ তৃণমূলের পক্ষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী দিনে আরও নতুন নাম তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও বিভাজন তৈরি হতে পারে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভোটব্যাঙ্কে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে সক্ষম।