সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ নেত্রীর ডেরায় মিলল ৪ কোটির সোনা, তেহট্টে পুলিশের ম্যারাথন তল্লাশি

সব্যসাচী ঘনিষ্ঠ নেত্রীর ডেরায় মিলল ৪ কোটির সোনা, তেহট্টে পুলিশের ম্যারাথন তল্লাশি

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দুর্নীতির জাল যে কতখানি বিস্তৃত, তা আবারও প্রমাণিত হলো নদীয়া জেলার তেহট্টের এক অভিযানে। বিধাননগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার গভীর রাতে নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা তৃণমূল নেত্রী টিনা ভৌমিক সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। রাতভর চলা এই ম্যারাথন অভিযানে নেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। বিপুল পরিমাণ এই সোনা বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার মূল উৎসের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।

গ্রেপ্তারি ও দুর্নীতির নেপথ্য কারণ

চলতি মাসের শুরুর দিকে তোলাবাজি ও বেআইনি সম্পত্তি অর্জনের একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বিধাননগরের দাপুটে নেতা সব্যসাচী দত্ত। ২০২৬ সালের নির্বাচনে বারাসাত কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হওয়ার পরই তাঁর এই জেলযাত্রা ঘটে। হেফাজতে নিয়ে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, তোলাবাজি ও কালো টাকা আড়াল করতে সব্যসাচী বিপুল পরিমাণ সোনা কিনে রাখতেন। তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাট এবং ব্যাংকের লকার থেকে সাড়ে ৩ কেজি সোনা ও সোনা কেনার একাধিক রসিদ উদ্ধার হয়। এরপর সব্যসাচীকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে, তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকেদেরও এই বেআইনি অর্থ সোনায় রূপান্তর করতে সাহায্য করেছিলেন। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ সব্যসাচীকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেত্রী টিনার তেহট্টের বাড়িতে হানা দেয়।

তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

জেলা পরিষদের নেত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ এই সোনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এই দুর্নীতির শৃঙ্খল কেবল একজন বা দুজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে। সব্যসাচী দত্তের ঘনিষ্ঠদের তালিকায় থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ওপরও এখন পুলিশের কড়া নজরদারি রয়েছে। এই ঘটনার ফলে আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের পরিধি আরও জেলা জুড়ে বিস্তৃত হতে পারে এবং কালো টাকা সোনা কেনার মাধ্যমে রূপান্তর করার এই চক্রে যুক্ত থাকা অন্যান্য ব্যক্তিদেরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *