চিকুনগুনিয়া সারাবে গোমূত্র! আইআইটি রুরকির গবেষণায় তুঙ্গে বিতর্ক

চিকুনগুনিয়া সারাবে গোমূত্র! আইআইটি রুরকির গবেষণায় তুঙ্গে বিতর্ক

এডিস মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে গোমূত্র অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে বলে দাবি করেছেন আইআইটি রুরকির একদল গবেষক। প্রথম সারির একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

গবেষণায় উঠে আসা তথ্য

আইআইটি রুরকির বায়োসায়েন্সেস অ্যান্ড বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শৈলী তোমর ও তাঁর দলের গবেষণায় বলা হয়েছে, গোমূত্রে থাকা বিশেষ কিছু বায়ো-অ্যাক্টিভ উপাদান চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম। গবেষকদের দাবি, গোমূত্রের সঠিক প্রয়োগে রক্তে ভাইরাসের মাত্রা বা ভাইরাল লেভেল ৯০ শতাংশেরও বেশি কমানো সম্ভব। গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, গোমূত্রের সঙ্গে থাইমোকুইনাইন বা পিপারাইন মেশানো হলে চিকুনগুনিয়ার ভাইরাসের মাত্রা ৯৯.৮৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

দাবি ঘিরে বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

গোমূত্রের ঔষধি গুণ নিয়ে এই ধরনের দাবি একেবারেই নতুন নয়। এর আগে সাংসদ প্রজ্ঞা ঠাকুর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গোমূত্র পানের কথা বলেছিলেন। পাশাপাশি, আইআইটি মাদ্রাজের প্রাক্তন প্রধানও গোমূত্রকে হজমের সহায়ক এবং ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকনাশক হিসেবে দাবি করেছিলেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা বরাবরই পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে এমন দাবিগুলি উড়িয়ে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে আইআইটি রুরকির নতুন গবেষণা জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সঠিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ছাড়া এই ধরনের উপাদানের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সুপ্রভাবের বদলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *