বিধানসভায় নজিরবিহীন সমীকরণ! কুণালকে পাশে টেনে ঋতব্রতকে কড়া আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: রাজ্য বিধানসভায় এবার সম্পূর্ণ এক নতুন এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমীকরণ! একদিকে আদি তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, অন্যদিকে বিদ্রোহী বা ‘বিরোধী’ তৃণমূলের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই দুইয়ের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনা চলাকালীন ‘দুই তৃণমূল বনাম বিজেপি’র এই অদ্ভুত রসায়ন দেখে কার্যত হতবাক রাজ্যবাসী। এদিন প্রথমবারের জন্য বিধানসভার অধিবেশন লাইভ স্ট্রিমিং হওয়ায় এই চরম নাটকীয় তরজা সরাসরি চাক্ষুষ করল গোটা বাংলা।
কুণালকে ‘আশ্বাস’ শুভেন্দুর
এদিন বিধানসভায় রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডার মাঝেই কুণাল ঘোষকে কার্যত অভয় দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি কুণালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনাদের যদি ঋতব্রত বা সন্দীপন সাহাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকে, আমাকে রিপোর্ট করবেন, আমি নিশ্চিতভাবে পদক্ষেপ করব।” উল্লেখ্য, এদিন অধিবেশন চলাকালীন কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগানও ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
ঋতব্রতর উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ
অন্যদিকে, নতুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বিধানসভায় জটিল ইতিহাস ও সমাজতত্ত্ব তুলে ধরে ঋতব্রতর দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী চরম কটাক্ষ করে বলেন:
- “বিরোধী দলনেতা, আপনার বক্তৃতা বাংলার বিরোধী দলনেতার মতো নয়, বরং একেবারে কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো শোনাল।”
- “আপনার মস্তিষ্কে কার্ল মার্কস আর হৃদয়ে লেনিন অথবা মাও সে তুং বসে আছেন।”
- “যাঁরা একদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বুর্জোয়া কবি বলেছিল, অন্তত তাঁদের কাছ থেকে আমি কোনও উপদেশ নেব না।”
সবমিলিয়ে, রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক আলোচনা মঙ্গলবার কার্যত রাজনৈতিক তরজা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মঞ্চে পরিণত হয়। পূর্বতন সরকারের আমলের দুর্নীতি থেকে শুরু করে বর্তমান প্রশাসনিক কাজকর্ম— সবকিছু নিয়েই এদিন বিধানসভা ছিল একেবারে সরগরম।