‘ভোটব্যাঙ্ক নয়, ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হোন!’ বিধানসভায় সংখ্যালঘুদের বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে জবাবি ভাষণ দিতে গিয়ে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে এক বড়সড় বার্তা দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তাঁর ভাষণের সিংহভাগ জুড়েই ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার তীব্র সমালোচনা। সংখ্যালঘুদের কীভাবে শুধুমাত্র ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, তা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকারে কোনও অপরাধী ছাড় পাবে না এবং কোনও বিশেষ সম্প্রদায়কে আঘাত করে কোনও কথা বলা হবে না।

তিলোত্তমা ও তামান্না— সবার জন্য ন্যায়বিচার:

মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিধানসভায় আশ্বস্ত করেন যে, তিলোত্তমার মায়ের পাশাপাশি তামান্নার মাও সমানভাবে বিচার পাবেন। তিনি বলেন, “আমি শপথ নিয়েছি, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এমন কোনও শব্দ বা বাক্য আমার মুখ থেকে পাবেন না, যাতে কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বলতে পারে তারা আঘাত পেয়েছে।”

‘মাদ্রাসায় কেন? কেন ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবেন না?’

সংখ্যালঘুদের শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে প্রাক্তন সরকারকে কড়া নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনারা মুসলমানদের ভুল পথে পরিচালিত করেছেন। কেন তাঁদের খারাজি মাদ্রাসায় পাঠাবেন? কেন স্কুল-কলেজে পাঠাবেন না? কেন তাঁরা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন না, এর উত্তর দিতে হবে।”

(উল্লেখ্য, এর আগে পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও মাদ্রাসায় দেওয়া ৫,৭১৩ কোটি টাকার বিপুল অনুদান এবং সেখানে আধুনিক শিক্ষার অভাব নিয়ে বিধানসভায় সরব হয়েছিলেন।)

বেলডাঙা প্রসঙ্গ ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ:

বেলডাঙার অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে এনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “তিন দিন জাতীয় সড়ক বন্ধ থাকার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ওরা তো শুক্রবার একটু-আধটু করবেই! এখন এনআইএ (NIA) যাওয়ার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কি আপনাদের আর খোঁজ নেন?” প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি তো এখন ব্যস্ত দাদার বাড়িটা ভাঙল কি না, ভাইপোটা জেলে গেল কি না, তা নিয়ে। আপনাদের কথা তিনি ভাবেন না।”

ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির অবসান:

দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীরা অভিযোগ করে আসছিল যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রে বড় ফ্যাক্টর ছিল। তবে এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন যে, সংখ্যালঘুরা রাজ্যে আর নিছক ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহৃত হবেন না, বরং তাঁদের আধুনিক শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *