বিধানসভায় শুভেন্দুর মমতা-কটাক্ষ! ওয়াকআউট ঋতব্রতদের, বসেই রইল ‘কালীঘাট তৃণমূল’

বিধানসভায় শুভেন্দুর মমতা-কটাক্ষ! ওয়াকআউট ঋতব্রতদের, বসেই রইল ‘কালীঘাট তৃণমূল’

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের আড়াআড়ি বিভাজন এবার বিধানসভার বুকেও একেবারে স্পষ্ট হয়ে উঠল। মঙ্গলবার রাজ্যপালের বাজেট-ভাষণের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সেই কটাক্ষের প্রতিবাদে তৃণমূলের বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ওয়াকআউট করলেও, বিধানসভায় চুপ করে বসেই রইলেন কুণাল ঘোষ-শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়রা। বঙ্গরাজনীতির বর্তমান টালমাটাল প্রেক্ষাপটে এই দৃশ্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

‘নিজের বুথে হেরেও জননেত্রী?’

২০২৬-এর নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে ১৫,১০৫ ভোটে হেরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় কটাক্ষ করে বলেন, “নিজের বুথে হারলেও কি জননেত্রী মানতে হবে?” তিনি অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “বিধানসভায় এই মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে উনি বলেছিলেন, পুরসভায় হেরেছ! আজ আপনি বাড়িতে বসে আমার কথা শুনছেন। আমি বলেছিলাম ২৬-এ উত্তর দেব। আজ বাংলার মানুষ এবং জনগণ সেই উত্তর দিয়ে দিয়েছে।”

ওয়াকআউট বনাম বসে থাকা:

শুভেন্দুর এই আক্রমণের পর বিধানসভায় তুমুল হইহট্টগোল শুরু করেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কেরা। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়ে ওয়াকআউট করার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, গত সোমবারই এই গোষ্ঠী দলের নবগঠিত কমিটি থেকে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৃণমূলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

তবে সবচেয়ে বড় চমক ছিল ওয়াকআউটের সময়। শুভেন্দু যখন মমতাকে আক্রমণ করছেন, তখন ঋতব্রতরা ওয়াকআউট করলেও নিজেদের আসনেই বসে থাকতে দেখা যায় মমতাপন্থী কুণাল ঘোষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়দের। বিরোধীদের এই বিভাজন দেখে শুভেন্দু কটাক্ষ করে বলেন, “কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল। আর নিজেদের আসল বলে দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল।”

কুণালের নিশানায় ঋতব্রত, শুভেন্দুর হাসি:

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর মমতাপন্থী কুণাল ঘোষ উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “নারী নির্যাতনে অভিযুক্তরা কেউ ছাড় পাবে না বলে আপনি যে কথা বলেছেন, তাকে আমরা পূর্ণ সমর্থন করি। কিন্তু ঋতব্রতের বিরুদ্ধেও তো অভিযোগ রয়েছে, তার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করুন।”

কুণালের মুখে এমন কথা শুনে বিধানসভাতেই হেসে ফেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের চরম ভাঙনের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “কী অবস্থা ভাবুন! মাত্র দেড় মাসে ২০ জন সাংসদ নেই, ৮০ জনের মধ্যে ৬২ জন বিধায়ক নেই। ঋতব্রত বা সন্দীপন দে-র বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে দিন, নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব।” তৃণমূলের এই করুণ পরিণতির জন্য দলের ‘দম্ভ, অহংকার, দুর্নীতি আর পরিবারবাদ’-কেই সরাসরি দায়ী করেছেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *