পরের জন্মে আপনি কী হবেন? পরজন্ম ও কর্মফল নিয়ে কী বলছে গরুড় পুরাণ?

পরের জন্মে আপনি কী হবেন? পরজন্ম ও কর্মফল নিয়ে কী বলছে গরুড় পুরাণ?

সনাতন ধর্মে পরজন্ম বা পুনর্জন্মের গভীর বিশ্বাস রয়েছে। শ্রীমদভগবদগীতা অনুযায়ী, মানুষ যেমন পুরনো জীর্ণ পোশাক বদল করে নতুন পোশাক পরিধান করে, আত্মাও ঠিক তেমনই জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে নতুন দেহ ধারণ করে। কিন্তু মৃত্যুর পর আত্মার সঙ্গে ঠিক কী ঘটে? পরের জন্মে কে কোন দেহ লাভ করবে? মানুষের এই চিরন্তন কৌতূহলের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে হিন্দু শাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ ‘গরুড় পুরাণ’-এ।

কীভাবে নির্ধারিত হয় পরবর্তী জন্ম?

ভগবান বিষ্ণু তাঁর বাহন গরুড় পক্ষীর প্রশ্নের উত্তরে মৃত্যু পরবর্তী অবস্থার এই গূঢ় রহস্য বর্ণনা করেছেন। গরুড় পুরাণ অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মার গন্তব্য এবং নতুন রূপ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে মানুষের জীবদ্দশার কৃতকর্মের উপর।

  • মৃত্যুর ঠিক পরের মুহূর্ত: প্রাণবায়ু নির্গত হওয়ার পর যমদূতেরা আত্মাকে যমলোকে নিয়ে যায়। সেখানে চিত্রগুপ্ত ওই ব্যক্তির সারাজীবনের পাপ ও পুণ্যের নিখুঁত হিসাব করেন। কে কতবার অন্যের উপকার করেছে বা ক্ষতি করেছে, তার ভিত্তিতেই আত্মার পরবর্তী গন্তব্য ঠিক হয়।
  • পাপীদের শাস্তি ও ৮৪ লক্ষ যোনি ভ্রমণ: যাঁরা সারাজীবন অন্যের ক্ষতি বা প্রতারণা করেছেন, তাঁদের যমলোকে প্রচণ্ড কষ্ট ভোগ করতে হয়। পাপের প্রায়শ্চিত্য শেষে তাঁরা সরাসরি মানুষের দেহ পান না। গরুড় পুরাণ বলছে, চুরি বা জালিয়াতি করলে পরের জন্মে পশুপাখি, কীটপতঙ্গ বা গাছপালা হয়ে জন্ম নিতে হয়। আত্মাকে মোট ৮৪ লক্ষ যোনি বা জন্ম পার করে তবেই ফের মানবদেহ লাভের অধিকারী হতে হয়।
  • পুণ্যাত্মার স্বর্গবাস: অন্যদিকে, যাঁরা জীবনে সৎ কাজ করেছেন, মানুষের সেবা করেছেন এবং ঈশ্বরে ভক্তি রেখেছেন, তাঁদের মৃত্যু পরবর্তী সফর অনেক সহজ হয়। এই পুণ্যাত্মারা পুণ্যফল অনুযায়ী কিছুদিন স্বর্গলোকে বাস করার পর সরাসরি পুনরায় মানবদেহ ধারণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

কর্মফলই জীবনের মূল কথা

গরুড় পুরাণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের বর্তমান জীবন হলো পূর্বজন্মের কৃতকর্মের ফল। অর্থাৎ, আগের জন্মে যেমন কাজ করেছি, এই জন্মে আমরা তেমনই ফল ভোগ করছি। তাই এই জন্মে কাউকে ঠকানো বা অন্যের অধিকার কেড়ে নেওয়া থেকে সর্বদা বিরত থাকা উচিত। কারণ মৃত্যুর পর পার্থিব সব কিছু এখানেই পড়ে থাকে, আত্মার সঙ্গে যাত্রা করে কেবল তার ‘কর্মফল’।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *