আরামবাগে নয়ানজুলিতে উল্টোল যাত্রীবাহী বাস! মৃত ২, ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আরামবাগে নয়ানজুলিতে উল্টোল যাত্রীবাহী বাস! মৃত ২, ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হুগলি: আরামবাগের আদমবাঁধে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়ানজুলিতে উল্টে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুই মহিলা যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই মৃতদের পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গঙ্গাস্নানে যাওয়াই কাল হলো!

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুই যাত্রীর নাম লক্ষ্মী মুর্মু (৬৫) এবং শর্মিলা সরেন (৩৫)। তাঁদের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়নার ধাড়ান আদিবাসী পাড়ায়। রায়নার ধাড়ান বাসস্ট্যান্ড থেকেই তাঁরা তারকেশ্বরগামী ওই বাসে উঠেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, তারকেশ্বর থেকে ট্রেন ধরে শেওড়াফুলিতে গিয়ে গঙ্গা স্নান করবেন। কিন্তু পুণ্যস্নানে যাওয়ার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাঁদের প্রাণ কেড়ে নিল।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবোঝাই বাসটি বর্ধমান থেকে পহলানপুর হয়ে তারকেশ্বর যাচ্ছিল। আরামবাগের আদমবাঁধের কাছে আচমকাই একটি বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে বাসটি রাস্তার পাশের নয়ানজুলিতে উল্টে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার বেহাল দশার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিকট আওয়াজ পেয়ে স্থানীয়রাই প্রথমে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে পুলিশ এসে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই চিকিৎসকেরা ওই দুই মহিলাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের পাশে প্রশাসন:

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই নিজে খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কড়া নির্দেশে বিধানসভার অধিবেশন ছেড়েই আহতদের দেখতে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজে ছুটে যান তিন বিধায়ক— হেমন্ত বাগ, বিমান ঘোষ (পুরশুড়া) এবং সুশান্ত ঘোষ (খানাকুল)। তাঁরা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়েই আমরা এসেছি। তিনি নিজে গোটা বিষয়টি তদারকি করছেন। মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ত্রুটি না হয়, তার সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *