‘মস্তিষ্কে মার্কস, হৃদয়ে লেনিন!’ বিধানসভায় ‘কমরেড’ ঋতব্রতকে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘মস্তিষ্কে মার্কস, হৃদয়ে লেনিন!’ বিধানসভায় ‘কমরেড’ ঋতব্রতকে খোঁচা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা: একসময় তিনি ছিলেন সিপিএমের পরিচিত মুখ, আর এখন তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। সেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার তাঁর ‘কমিউনিস্ট’ অতীতের কথা মনে করিয়ে দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে একদিকে তিনি যেমন বিরোধী দলনেতাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন, তেমনই রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে বিরোধীদের কাছে সহযোগিতাও চাইলেন।

‘বক্তৃতা ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো’

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর বক্তব্যের পরই পালটা বলতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। ঋতব্রতকে নিশানা করে তিনি বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলনেতা, আজকে আপনার বক্তৃতা ছিল কমিউনিস্ট আন্দোলনের মতো। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতার মতো বক্তব্য ছিল না।”

বামপন্থী আদর্শ নিয়ে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন:

  • “আপনার মস্তিষ্কে কার্ল মার্কস আর হৃদয়ে লেনিন অথবা মাও জে দং আছেন।”
  • “যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া কবি বলেছিল, তাঁদের থেকে আমি অন্তত উপদেশ নেব না।”
  • “বাংলাদেশে রবীন্দ্রনাথ বা অবনীন্দ্রনাথের বাড়ি আক্রান্ত হওয়ার কথা আপনি বললেন না কেন? সত্যজিৎ রায়ের বাড়ি আক্রান্ত হওয়ার কথাও বললেন না কেন?”

তৃণমূলের ওয়াকআউট ও মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ

এদিন বিধানসভায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। এর প্রতিবাদে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল বিধায়করা বিধানসভা কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান (ওয়াকআউট)। তাঁদের এই পদক্ষেপকে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীঘাট তৃণমূল থেকে গেল, আর আসল দাবি করা তৃণমূল পালিয়ে গেল! আপনাদের এই দৈন্যদশার জন্য আমরা দায়ী নই, আপনারাই দায়ী।”

দুর্নীতি ইস্যুতে ‘জিরো টলারেন্স’

রাজ্যের দুর্নীতি ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কোনও চোর ছাড়া পাবে না।”

এর পরিপ্রেক্ষিতে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ তদন্তকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “যাঁরা ভালো সাজতে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও তদন্ত হলে দোষীদের শাস্তি দেবেন।” কুণালের মন্তব্যের জবাবে শুভেন্দু বলেন, “ঋতব্রত বা সন্দীপনদের বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে এবং আপনারা তথ্য দেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে তদন্ত হবে।”

উন্নয়নের স্বার্থে সহযোগিতার বার্তা

রাজনৈতিক আকচাআকচির পাশাপাশি এদিন বিরোধীদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন:

  • “আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। চাকরি দিতে হবে, শিল্প আনতে হবে এবং নারী সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হবে।”
  • রাজ্যের উন্নতিতে সবাইকে পাশে চেয়ে তিনি সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘আপনাদের সরকার, আপনাদের পাশে’-র হেল্পলাইন নম্বরটি সকলের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *