তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হতেই রায়নায় অকাল দীপাবলি! গেরুয়া আবির ও মিষ্টিমুখ করে উল্লাস
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/06/24/tmc-2026-06-24-10-17-00.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পূর্ব বর্ধমান: এক বিজেপি মহিলা কর্মীর ওপর অমানুষিক নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং তোলাবাজির অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন পূর্ব বর্ধমানের রায়নার দাপুটে তৃণমূল নেতা বামদেব মণ্ডল। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁর সহযোগী নিজামুদ্দিন শেখ ওরফে কাজলকেও। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রায়না জুড়ে যেন অকাল দীপাবলির মেজাজ! গেরুয়া আবির খেলে এবং মিষ্টি বিতরণ করে উল্লাসে মাতলেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
হাড়হিম করা অভিযোগ:
ধৃত বামদেব মণ্ডল ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে রায়নার বামুনিয়া গ্রামের এক বিজেপি মহিলা কর্মী অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছেন—
- তোলাবাজি ও সশস্ত্র হামলা: গত ১০ মার্চ বামদেব সদলবলে ওই মহিলার ওপর চড়াও হয়ে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন। মহিলা ৩০ হাজার টাকা দিলেও রেহাই পাননি।
- চরম শারীরিক নির্যাতন: টাকা কম দেওয়ায় মহিলার পোশাক টেনে ছিঁড়ে ব্লেড দিয়ে বুক ও পিঠ চিরে দেওয়ার মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।
- মারধর ও হুমকি: বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকির পাশাপাশি, মহিলার স্বামী-সহ অন্যান্য বিজেপি কর্মীদেরও রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশি পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা:
বর্ধমান দক্ষিণের এসডিপিও অভিষেক মণ্ডল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজি এবং অস্ত্র আইন-সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে রায়না থানার পুলিশ। শনিবার রাতে জাকতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
নেতার অতীত ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন:
বাম আমলে সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা বামদেব ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রায়না ১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি হন। এলাকায় তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তবে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
- বিজেপির প্রতিক্রিয়া: রায়নার বিজেপি বিধায়ক সুভাষ পাত্র বলেন, “গোটা রায়না জুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন বামদেব মণ্ডল। বিরোধীদের ওপর সীমাহীন অত্যাচার চালিয়েছেন তিনি। আজ তাঁর গ্রেপ্তারে রায়নার মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।”
- তৃণমূলের পাল্টা দাবি: তৃণমূল নেতা দেবু টুডু এই সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই গোটা রাজ্য জুড়ে তৃণমূল নেতাদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে। রায়নাতেও ঠিক সেটাই করা হয়েছে।”