তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়: মৃত ৩, ধ্বংসস্তূপে এখনও আটকে অন্তত ১৮!

কলকাতা: তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। ৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ভারী লোহার বিমের কারণে ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার প্রক্রিয়া। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও ১২ থেকে ১৮ জন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
উদ্ধারকাজের বর্তমান পরিস্থিতি একনজরে:
- মৃত ও আহত: এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মোট ২১ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, যাঁদের মধ্যে ১৮ জন আহত অবস্থায় এসএসকেএম সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
- আটকে পড়া শ্রমিক: ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১২ থেকে ১৮ জন আটকে রয়েছেন বলে খবর। তবে এনডিআরএফ (NDRF) সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেতরে আটকে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে এবং তাঁদের দ্রুত বের করে আনার চেষ্টা চলছে।
- উদ্ধারকারী দল: এনডিআরএফ, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), দমকল এবং কলকাতা পুলিশের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীও। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে ২০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রাখা হয়েছে।
- প্রধান বাধা: দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বিশাল লোহার কাঠামো এবং ভারী বিম সরাতেই সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “সকাল থেকেই মন্ত্রীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। প্রশাসন ও সমস্ত উদ্ধারকারী সংস্থা একযোগে কাজ করছে।”
উদ্ধারকাজে যুক্ত কলকাতা পুলিশ ও দমকল বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা নিয়ে পুলিশ ও দমকল কর্মীরা যদি দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু না করতেন, তাহলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। এনডিআরএফের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। উদ্ধারকারী দলগুলি যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারে, সেই কারণেই আমরা কিছুটা পরে ঘটনাস্থলে এসেছি।”
ক্ষতিপূরণ ও সরকারি বিবৃতি:
ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি। আগামীকাল সকাল ১১টায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে। যেহেতু বিধানসভার অধিবেশন চলছে, তাই এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। আগামীকাল বিধানসভাতেই এই দুর্ঘটনা নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হবে।”